ইয়েল গবেষক

‘গণহত্যা লুকাতে অভিযান’, সুদানের এল-ফাশেরে গণকবর খুঁড়ছে আরএসএফ

‘তারা এই গণহত্যার চিহ্ন মুছে ফেলতে চাইছে।‘

জাতিসংঘ জানিয়েছে, দখলের পর থেকে ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ শহর ও আশপাশের এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে। সেখানে বহু বেসামরিক হত্যাকাণ্ড, যৌন সহিংসতা ও তাৎক্ষণিক মৃত্যুদণ্ডের খবর পাওয়া গেছে।

সুদানের পশ্চিম দারফুর অঞ্চলের শহর এল-ফাশেরে গণহত্যা চালানোর পর আধা-সামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) সেখানে গণকবর খুঁড়তে শুরু করেছে। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গবেষক এটিকে গণহত্যার চিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন।

ইয়েলের স্কুল অব পাবলিক হেলথের হিউম্যানিটারিয়ান রিসার্চ ল্যাবের নির্বাহী পরিচালক নাথানিয়েল রেমন্ড মঙ্গলবার আল জাজিরাকে জানান, আরএসএফ শহরের সর্বত্র গণকবর খনন এবং লাশ সংগ্রহ করা শুরু করেছে। তিনি বলেন, ‘তারা এই গণহত্যার চিহ্ন মুছে ফেলতে চাইছে।‘

আরএসএফ গত ২৬ অক্টোবর সুদানি সেনাবাহিনীকে (এসএএফ) সরিয়ে এল-ফাশের দখল করে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, দখলের পর থেকে ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ শহর ও আশপাশের এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে। সেখানে বহু বেসামরিক হত্যাকাণ্ড, যৌন সহিংসতা ও তাৎক্ষণিক মৃত্যুদণ্ডের খবর পাওয়া গেছে।

ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে স্যাটেলাইট ছবিতে ‘রক্তের দাগ’ ও গণহত্যার চিহ্ন দেখা গেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) সতর্ক করে বলেছে, ১৮ মাস ধরে আরএসএফের অবরোধের কারণে এল-ফাশেরে কোনো মানবিক সহায়তা পৌঁছায়নি এবং স্বাস্থ্য পরিষেবাও বন্ধ।

বিশ্বজুড়ে নিন্দার মুখে আরএসএফ নেতারা এ ‘গণহত্যাকে’ তুচ্ছ করে দেখাতে চাচ্ছে এবং মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর চলছে দোষ চাপানোর চেষ্টা। তাদের নেতা মোহাম্মদ হামদান দাগালো (হেমেদতি) তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিলেও রেমন্ড এতে আস্থা রাখেননি। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তারা যদি সত্যিই তদন্ত চায়, তবে ঘটনাস্থলে জাতিসংঘ ও রেড ক্রসকে ঢুকতে দিতে হবে। আরএসএফকে নিজেদের কর্মকাণ্ডের তদন্ত করতে দেয়া যায় না।'

রেমন্ডের মতে, এল-ফাশেরে মাত্র ১০ দিনে যত মানুষ নিহত হয়েছে, তা গত দুই বছরে গাজায় নিহত সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

আরও