‘নারকো-সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে ভেনেজুয়েলার নৌকা আরোহীদের ওপর মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলায় ৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নৌকা আরোহীদের 'নারকো-সন্ত্রাসী' আখ্যা দিলেও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তদন্তে উঠে এসেছে এক ভিন্ন চিত্র। নিহতদের অধিকাংশই মাদক কার্টেলের নেতা বা সন্ত্রাসী নয়, বরং তারা ছিলেন দারিদ্র্যের শিকার সাধারণ মানুষ।
এপির খবরে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক অভিযানে অন্তত ৬০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই ভেনেজুয়েলার উত্তর-পূর্ব উপকূলের দরিদ্র জেলেপল্লির বাসিন্দা। তারা কেউ ছিলেন অল্প আয়ের জেলে, কেউ প্রাক্তন সৈনিক, কেউবা হতাশ বেকার।
মার্কিন সেনাবাহিনী এখন পর্যন্ত ১৭টি নৌকা ধ্বংস করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব নৌযান মাদক পাচারে যুক্ত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ‘নার্কো-সন্ত্রাসী’। পেন্টাগন বলছে, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী তাদের এসব অভিযান বৈধ।
তবে নিহতদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এপি জানিয়েছে, অধিকাংশ নিহত ছিলেন অল্প আয়ের শ্রমিক বা মাঝেমধ্যে পাচারচক্রের ভাড়া করা নৌকার কর্মী। তারা কোনো কার্টেল বা বড় অপরাধচক্রের সদস্য ছিলেন না।
ভেনেজুয়েলার পূর্বাঞ্চলের পারিয়া উপদ্বীপে অর্থনৈতিক মন্দা, বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের কারণে বহু মানুষ বাধ্য হচ্ছেন মাদক বহনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৪২ বছর বয়সী জেলে রবার্তো সানচেজ, যিনি মাসিক প্রায় ১০০ ডলার আয় দিয়ে পরিবার চালাতেন; ৬০ বছর বয়সী স্থানীয় অপরাধচক্রের নেতা লুইস ‘চে’ মার্টিনেজ; প্রাক্তন সামরিক ক্যাডেট দুশাক মিলোভচিচ; এবং এক প্রাক্তন বাসচালক হুয়ান কার্লোস ফুয়েন্তেস।
নিহতদের বেশিরভাগই প্রথম বা দ্বিতীয়বারের মতো এই ধরনের মাদকবাহী নৌকায় কাজ করছিলেন। তাদের উপরের স্তরের পাচারকারীরা হামলার ভয়ে লুকিয়ে থাকায় এ কাজের জন্য অনভিজ্ঞ ও নতুনদের নিয়োগ দেয়া হয়েছিল।
ভেনেজুয়েলা সরকার এই হামলাকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। তবে নিহতদের পরিচয় বা মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন দাবি করছে, এসব অভিযান মাদক পাচার রোধে সহায়ক হবে। কিন্তু নিহতদের পরিবার বলছে, তাদের প্রিয়জনদের অন্তত আইনি বিচারের সুযোগ দেয়া উচিত ছিল।