একই সঙ্গে আটলান্টিক উপকূলে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সহায়তা চেয়েছে ফ্রান্স। আগুনের বিস্তার ঠেকাতে দুই দেশেই হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। খবর রয়টার্স।
ফ্রান্সের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপ পুরোপুরি খালি করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দাবানলের ধোঁয়া ও আগুন আবাসিক এলাকায় পৌঁছে যাওয়ায় প্রায় ৬৩ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে, যাদের অনেককে নৌপথে সরানো হয়। এর আগে বোর্দো অঞ্চলের উপকূলীয় পাইন বনে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর বুধবার থেকেই ২০ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। তাদের বেশির ভাগই ছিলেন ক্যাম্পসাইট ও অবকাশযাপন কেন্দ্রে অবস্থানরত পর্যটক। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুনের উত্তরাংশ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এলেও দক্ষিণাঞ্চলে পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ জানান, সওমো এলাকায় শুরু হওয়া দাবানল চলতি মৌসুমে দেশটির সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। এতে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ৮০টি বাড়ি, যার মধ্যে প্রায় ৫০টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ জানিয়েছেন, দাবানল মোকাবেলায় সহায়তার জন্য ইইউর কাছে বিশেষায়িত অগ্নিনির্বাপণ বিমান চাওয়া হয়েছে।
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চল ও পাশের আভিলা প্রদেশে দাবানলের কারণে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আগুনের তীব্রতা, প্রবল গরম ও দমকা হাওয়ার কারণে সরকার জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। দাবানলের কারণে দেশটিতে এ ধরনের ব্যবস্থা এবারই প্রথম নেয়া হলো। ফলে কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন সংস্থার তৎপরতা আরো সমন্বিতভাবে পরিচালনা করতে পারবে। স্পেনও পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইইউর সহায়তা চেয়েছে।