চীনের ডেটা সেন্টার খাত ছাড়ছে বিদেশী বিনিয়োগ তহবিল

চীনের ডেটা সেন্টার খাত থেকে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে বৈশ্বিক বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিলগুলো।

কয়েক বছর ধরে দেশটির ক্লাউড কম্পিউটিং খাতে বড় বিনিয়োগের পর এখন বিদেশী মালিকানার ওপর রাজনৈতিক ও নিয়ন্ত্রক চাপ বাড়ায় এসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের সম্পদ বিক্রি করছে। খবর এফটি।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে বিদেশী বিনিয়োগের এক দশকের সম্প্রসারণ এখন শেষের দিকে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা নতুন করে মালয়েশিয়া, জাপান ও ভারতের মতো বাজারে ঝুঁকছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রিন্সটন ডিজিটাল গ্রুপ বা পিডিজি চীনে থাকা ডেটা সেন্টার সম্পদ বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্পদ বিক্রি থেকে প্রায় ১০০ কোটি ডলার পাওয়া যেতে পারে। পিডিজির পেছনে বিনিয়োগ রয়েছে ওয়ারবার্গ পিনকাসের। চীনের ছয়টি শহরে ডেটা সেন্টার রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

২০১৭ সালের পর থেকে বেইন ক্যাপিটাল, ওয়ারবার্গ পিনকাস ও কার্লাইলের মতো বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলো চীনের ডেটা সেন্টার খাতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে। মূল লক্ষ্য ছিল দ্রুত বাড়তে থাকা ক্লাউড কম্পিউটিং বাজার। বিশেষ করে আলিবাবা, টেনসেন্ট ও বাইটড্যান্সের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের চাহিদা এ খাতকে দ্রুত বড় করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ডেটা সেন্টারকে তুলনামূলক স্থিতিশীল আয়ের খাত হিসেবে দেখা হয়। এ কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিলগুলো এ খাতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। চীনে সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষা আইন কঠোর হয়েছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামোয় বিদেশী মালিকানা রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।

একই সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক চাহিদা বাড়ায় ডেটা সেন্টারের মূল্যও বেড়েছে। ফলে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা এখন লাভ নিয়ে স্থানীয় ক্রেতাদের কাছে সম্পদ বিক্রি করতে পারছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক তহবিলগুলো এখন তুলনামূলক নিরাপদ ও স্থিতিশীল বাজারে বিনিয়োগ সরিয়ে নিচ্ছে। বিশেষ করে এশিয়ার অন্য দেশগুলোয় তাদের আগ্রহ বাড়ছে।

গত বছর বেইন ক্যাপিটাল চীনের ডেটা সেন্টার সম্পদ স্থানীয় একটি জোটের কাছে ৪০০ কোটি ডলারে বিক্রি করে। এ জোটের নেতৃত্বে ছিল শেনজেন ডংইয়াংগুয়াং শিল্প। তবে বেইন চীনের বাইরের কার্যক্রম নিজেদের কাছে রেখেছে। ফার্মটি ‘ব্রিজ ডেটা সেন্টারস’ নামের আঞ্চলিক প্লাটফর্ম ব্যবহার করে এশিয়ার অন্যান্য দেশে সম্প্রসারণ চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে কার্লাইল ২০২০ সালে চীনের ডিজিটাল অবকাঠামো প্রতিষ্ঠান ভিএনইটি গ্রুপে রূপান্তরযোগ্য বন্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগ করে। তবে গত দুই বছরে প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে অংশীদারত্ব কমিয়েছে।

চীন থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলো এখন এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। বিশেষ করে মালয়েশিয়া এখন দ্রুত বাড়তে থাকা ডেটা সেন্টার বাজারে পরিণত হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা মূলত সিঙ্গাপুর ও চীনের গ্রাহকদের সেবা দেয়ার জন্য সেখানে ডেটা সেন্টার নির্মাণ করছেন।

জাপানও এখন গুরুত্বপূর্ণ বাজার হয়ে উঠেছে। দেশটির নিয়ন্ত্রক স্থিতিশীলতা এবং দুর্বল ইয়েন বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করছে। ভারতেও এখন দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছে বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিলগুলো।

চীনের ডেটা সেন্টার বিক্রির পর বেইন ক্যাপিটাল ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের বাজারে এখনো বড় ও ক্লাউড কম্পিউটিং খাত বাড়ছে। তবে রাজনৈতিক ও নিয়ন্ত্রক ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিদেশী বিনিয়োগকারীরা এখন আরো সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে।

আরও