যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্য ঘাটতি এড়াতে শুল্ক আরোপের নামে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু একাধিক আদালত রায়ে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের আরোপিত অধিকাংশ শুল্কই অবৈধ। এ পদক্ষেপ তার সাংবিধানিক ক্ষমতার বাইরে। খবর রয়টার্স।
সম্প্রতি একটি আপিল আদালত এক রায়ে বলেছে, প্রেসিডেন্ট তার ক্ষমতা অতিক্রম করে শুল্ক আরোপ করেছেন। এর আগে নিউইয়র্কভিত্তিক ইউ.এস. কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডও একই ধরনের রায় দিয়েছিল। সেখানে তিন সদস্যের বিচারক প্যানেলে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে নিয়োগ পাওয়া একজন বিচারকও ছিলেন। একইসঙ্গে ওয়াশিংটনের আরেকটি আদালতও রায় দিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন ট্রাম্পকে এ ধরনের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। সরকার এরইমধ্যে সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে অন্তত আটটি মামলা। এর মধ্যে একটি করেছে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য।
কোর্টের এ রায়ের পরও বাজারে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অস্থিরতা ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বি. রাইলি ওয়েলথের প্রধান বাজার কৌশলবিদ আর্ট হোগান বলেন, ‘করপোরেট আমেরিকা কিংবা বাজারের এখন সর্বশেষ যে জিনিসটি দরকার, তা হলো বাণিজ্যে আরো অনিশ্চয়তা।'
ট্রাম্প বর্তমানে ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুককে অপসারণ নিয়ে আরেকটি আইনি লড়াইয়ে জড়িয়েছেন, যা কার্যত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
আটলান্টিক কাউন্সিলের আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান জশ লিপস্কি মন্তব্য করেন, ‘এটি ট্রাম্পের পুরো অর্থনৈতিক এজেন্ডাকে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘর্ষের মুখে ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এ ধরনের পরিস্থিতি আগে কখনো দেখা যায়নি।‘
বর্তমান সুপ্রিম কোর্টে রক্ষণশীলদের ৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আদালত পুরনো আইনকে নতুন করে প্রেসিডেন্টদের জন্য ক্ষমতার উৎস হিসেবে ব্যাখ্যা করতে অনিচ্ছা দেখিয়েছে। ফলে ট্রাম্পের শুল্ক নীতি ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের রায় এখন মূল নির্ধারক হয়ে দাঁড়িয়েছে।