মন্টানার গ্রিজলি ভাল্লুক অধ্যুষিত অঞ্চলে স্ত্রী লরা ও'নিল এবং দুই কুকুরকে নিয়ে তিন সপ্তাহের হাইকিংয়ের শেষ দিনে ছিলেন মার্কিন বিজ্ঞানী ড. ফ্রেড রামসডেল। হঠাৎই স্ত্রীর চিৎকারে ভাঙে নীরবতা। তবে কোনো বন্য প্রাণী নয়, সেদিনের সেই চিৎকারের কারণ শত শত টেক্সট মেসেজ। সেখানেই ছিল ড. রামসডেলের নোবেল পুরস্কার জেতার খবর।
নোবেল কমিটি যখন তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করছিল, তখন ড. রামসডেলের ফোনটি ছিল 'এয়ারপ্লেন মোড' এ। স্ত্রী যখন তাকে বললেন, ‘তুমি নোবেল পুরস্কার জিতেছো’, তখন তার প্রথম উত্তর ছিল, ‘আমি জিতিনি।‘ মিসেস ও'নিল তখন জানান, তার কাছে অন্তত ২০০টি টেক্সট মেসেজ এসেছে, যা বলছে অন্য কথা।
ড. রামসডেল ইমিউন সিস্টেম কিভাবে ক্ষতিকারক সংক্রমণকে প্রতিহত করে, সেই গবেষণার জন্য আরো দুই বিজ্ঞানীর সঙ্গে যৌথভাবে এ বছর চিকিৎসাবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার জিতেছেন। বিজয়ীরা ১১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ড) পুরস্কারের অর্থ ভাগ করে নেবেন।
মেসেজগুলো দেখার পর ফোনের ভালো সিগন্যালের খোঁজে দম্পতি মন্টানার দক্ষিণের একটি ছোট শহরের দিকে গাড়ি চালিয়ে যান। ড. রামসডেল বিবিসি নিউসহাওয়ার প্রোগ্রামে বলেন, ‘তখন এখানে বিকাল প্রায় তিনটা, আমি নোবেল কমিটিকে ফোন করলাম। তারা ততক্ষণে শুয়ে পড়েছেন, কারণ সেখানে তখন সম্ভবত রাত একটা।’
নোবেল কমিটির প্রথমবার যোগাযোগ করার চেষ্টার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর অবশেষে নোবেল অ্যাসেম্বলির সতীর্থ বিজয়ী, বন্ধুবান্ধব এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করতে সক্ষম হন।
নোবেল অ্যাসেম্বলির সেক্রেটারি জেনারেল ড. টমাস পার্লম্যান নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান, ২০১৬ সালে দায়িত্ব নেয়ার পর পুরস্কারজয়ী কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে এর আগে তার এত কষ্ট হয়নি।
ড. রামসডেল মজা করে বলেন, তার অনেক বন্ধু থাকলেও একসঙ্গে এত বড় রসিকতা করার জন্য যথেষ্ট সংগঠিত তারা নয়।
বিবিসি অবলম্বনে