ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার আজ রোববার বিকেলে এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাজ্যের স্বীকৃতির ঘোষণা দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অবস্থান পরিবর্তন করতে চলেছে যুক্তরাজ্য। আগে বলা হতো, স্বীকৃতি আসবে শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এবং যখন তা সর্বোচ্চ প্রভাব রাখতে পারবে। খবর বিবিসি।
স্টারমার জুলাইয়ে ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেপ্টেম্বরে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে না গেলে এবং দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পথে না এলে যুক্তরাজ্য অবস্থান পরিবর্তন করবে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গাজায় ভয়াবহ পরিস্থিতি, খাদ্য সংকট ও সহিংসতা যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করেছে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বরাবরের মতোই এ পদক্ষেপকে ‘সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। জিম্মি পরিবারগুলোও প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি লিখে স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত না নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, এতে অবশিষ্ট ৪৮ জন জিম্মিকে ফেরানোর প্রচেষ্টা জটিল হয়ে পড়বে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। ছবি- পিএ মিডিয়া
ব্রিটিশ মন্ত্রীরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রক্রিয়ার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে এই পদক্ষেপ নৈতিক দায়িত্ব। তারা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও সহিংসতার বৃদ্ধি, যা দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পথে বড় বাধা।
ফিলিস্তিনকে এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রায় ৭৫ শতাংশ স্বীকৃতি দিয়েছে। স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও নরওয়ে গত বছর এই পদক্ষেপ নেয়। এবার পর্তুগাল, ফ্রান্স, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াও একই পথে হাঁটার ঘোষণা দিয়েছে।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস সম্প্রতি লন্ডন সফরে স্টারমারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, ভবিষ্যতের ফিলিস্তিনি সরকারের কোনো ভূমিকাই হামাসকে দেয়া হবে না।
এদিকে, কনজারভেটিভ নেতা কেমি বাডেনক বলেছেন, জিম্মিদের মুক্তি ছাড়া এখন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়া ‘সন্ত্রাসবাদের পুরস্কার’। তবে লেবার পার্টির ভেতরে দীর্ঘদিন ধরেই এই স্বীকৃতির দাবিতে চাপ বাড়ছিল। জুলাই মাসে দলের অর্ধেকের বেশি এমপি স্বীকৃতির পক্ষে যৌথ চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।