‘ওমেগা ব্লক’ নামের বিরল আবহাওয়া পরিস্থিতিতে বিপর্যস্ত ইউরোপের জনজীবন। রয়টার্স ক্লাইমেট মনিটরের তথ্য অনুযায়ী, গ্রীক অক্ষর ‘ওমেগা’ আকৃতির বিশেষ আবহাওয়া চক্রের কারণে অঞ্চলটির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
মঙ্গলবার ফ্রান্সে গত ৮০ বছরের ইতিহাসে (নথিভুক্তকরণের পর থেকে) সবচেয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পিসোসে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৪৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। গরমে স্বস্তি পেতে পানিতে নেমে ফ্রান্সে অন্তত ৪৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া গাড়ির ভেতর আটকে গরমে দুই শিশু মারা গেছে।
একই সঙ্গে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গতি কমানো হয়েছে ট্রেন চলাচলে এবং ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। এমনকি তীব্র গরম ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে কৃষকরা রাতে ফসল কাটতে বাধ্য হচ্ছেন।
ইতিহাসের সবচেয়ে উত্তপ্ত জুন মাসের রেকর্ড গড়ার মুখে রয়েছে ব্রিটেন। দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর (মেট অফিস) ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো ‘চরম তাপপ্রবাহের’ সতর্কতা জারি করেছে। সুস্থ মানুষও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় শত শত স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ফ্লোরেন্স, মিলান, রোম, তুরিন ও ভেরোনাসহ ১৬ শহরের জন্য সর্বোচ্চ স্তরের ‘হিট অ্যালার্ট’ জারি করেছে ইতালির সরকার।
আবহাওয়া সংস্থা মেটিও-ফ্রান্স জানিয়েছে, এ পরিস্থিতি ২০০৩ সালের আগস্টের ভয়াবহ তাপপ্রবাহের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, যা ১৬ দিন স্থায়ী হয়েছিল। সেবছর তীব্র গরমে ইউরোপের প্রায় ৮০ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেছিল। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মতে, ইউরোপ বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি দ্রুত গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে, যার ফলে এমন দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের ঘটনা আরো ঘন ঘন ঘটছে।