দিল্লির লালকেল্লার কাছে সোমবার সন্ধ্যায় গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ফরিদাবাদের আল ফালাহ মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক মোহাম্মদ উমরের নাম উঠে এসেছে। এই বিস্ফোরণে দশজন নিহত এবং অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। খবর ইন্ডিয়া টুডে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উমর ফরিদাবাদ সন্ত্রাসী মডিউলের সদস্য এবং গত সোমবার রাতে লালকেল্লার কাছে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে তাকে সন্দেহ করা হচ্ছে।
তদন্তকারী সূত্র জানিয়েছে, বিস্ফোরণের জন্য ব্যবহৃত হুন্দাই আই২০ গাড়িটি উমর নিজেই চালাচ্ছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ আগে গাড়ির চালকের আসনে উমরকে দেখা গেছে। বিস্ফোরণের আগে প্রায় তিন ঘণ্টা সুনেহরি মসজিদের কাছে গাড়িটি পার্ক করা ছিল।
সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে বিস্ফোরণের আগে সিসিটিভিতে দেখা যায়, উমর নিজেই সেই হুন্দাই আই২০ গাড়িটি চালাচ্ছেন। সেই গাড়িতেই পরে বিস্ফোরণ ঘটে। গাড়িটি বিকাল ৩টা ১৯ মিনিটে পার্কিংয়ে ঢোকে এবং ৬টা ৪৮ মিনিটে বের হয়। তার অল্প সময় পরই ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ।
উমরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে অনন্তনাগ মেডিকেল কলেজের সাবেক চিকিৎসক আদিল আহমদ রাঠারকে শনাক্ত করা হয়েছে। গত সপ্তাহে তাকে গ্রেফতার করা হয়। রাঠারের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ফরিদাবাদে সোমবার অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ফুয়েল অয়েল ব্যবহার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মুজামিল শাকিল নামে আরেক অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর আতঙ্কিত হয়ে উমর এই হামলা চালান। এটিকে আত্মঘাতী অভিযান হিসেবেও মনে করা হচ্ছে।
গাড়িটি ফরিদাবাদ থেকে একাধিকবার মালিকানা বদলের পর শেষ পর্যন্ত উমরের কাছে আসে। বর্তমানে ১৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদে নেয়া হয়েছে। সে সঙ্গে, ফরেনসিক টিম চালকের ডিএনএ শনাক্তের কাজও করছে। এ ঘটনায় রাজধানী নয়াদিল্লিতে জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা। সীমান্ত পয়েন্টে গাড়ি তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।