ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি স্থাপনের জন্যে ইউক্রেন কখনোই তার জনগণের আত্মত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না। কিয়েভের মূল মিত্রদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়ায় যুদ্ধের বর্ষপূর্তির আয়োজন ম্লান হয়ে গেছে। এর মধ্যেও মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) নিজের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জেলেনস্কি। খবর রয়টার্স।
ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং ইউক্রেনের জন্য ৯০ বিলিয়ন ইউরো ঋণ সহায়তার বিষয়ে একমত হওয়ার আশা করেছিল। কিন্তু মস্কোর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত হাঙ্গেরি সোমবারও এ দুটি বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে।
হাঙ্গেরি ও প্রতিবেশী স্লোভাকিয়ার অভিযোগ, ইউক্রেন ইচ্ছাকৃতভাবে দ্রুজবা পাইপলাইন দিয়ে রুশ তেল সরবরাহ আটকে রেখেছে। তবে ইউক্রেনের দাবি, জানুয়ারিতে রুশ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বর্তমানে লাইনটি মেরামতের চেষ্টা করছে তারা।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সর্বাত্মক আগ্রাসনের ঘোষণা দেয় রাশিয়া। এর চতুর্থ বার্ষিকী উপলক্ষে কিয়েভে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েনসহ পশ্চিম ইউরোপের প্রতিনিধিদের স্বাগত জানানোর কথা ছিল জেলেনস্কির। তবে এবার কোনো বড় পশ্চিমা রাষ্ট্রনেতাকে সেখানে আশা করা হচ্ছে না।
জেলেনস্কি বলেন, পুতিন তার লক্ষ্য অর্জন করতে পারেননি। ইউক্রেনীয় জনগণের মনোবল ভাঙতে পারেননি। তিনি এ যুদ্ধে জিততে পারেননি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কিয়েভে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে জেলেনস্কি বলেন, শুধুমাত্র ইউক্রেনে এসে নিজ চোখে এখানকার মানুষের জীবন ও সংগ্রাম দেখলেই ট্রাম্প বুঝতে পারবেন এ যুদ্ধ আসলে কীসের জন্য।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত দুই পক্ষেরই লাখো সেনা নিহত ও আহত হয়েছেন। এছাড়া রুশ বাহিনী হাজারো ইউক্রেনীয় বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে। বছরের পর বছর ধরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়ার সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা ভূ-খণ্ডগত জটিলতায় থমকে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনী অত্যন্ত ধীরগতিতে অগ্রসর হলেও মস্কোর দাবি ইউক্রেনকে পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্কের অবশিষ্ট ২০ শতাংশ ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে হবে। অন্যদিকে, হাজারো মানুষের প্রাণের বিনিময়ে রক্ষা করা নিজেদের ভূখণ্ড কোনোভাবেই ছাড়তে রাজি নয় কিয়েভ।
জেলেনস্কি বলেন, আমরা শান্তি চাই, একটি শক্তিশালী, মর্যাদাপূর্ণ এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি। তিনি শান্তি আলোচকদের উদ্দেশে বলেন, ইউক্রেন যে সংগ্রাম, সাহস ও মর্যাদার সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবেলা করেছে, তাকে অবমূল্যায়ন করা যাবে না। এটা ছেড়ে দেয়া, ভুলে যাওয়া কিংবা এর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা সম্ভব নয়।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ইউক্রেনে সামান্য ভূখণ্ড দখলের জন্য রাশিয়াকে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। একদিন রুশ জনগণ তাদের নামে সংঘটিত এ অপরাধের ভয়াবহতা বুঝতে পারবে।
পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট করোল নাওরকিও এক্সের এক পোস্টে বলেছেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ আগ্রাসন ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, ‘যারা প্রতিদিন স্বাধীনতার জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন, আমরা তাদের সাহসিকতাকে শ্রদ্ধার চোখে দেখি।