মাদুরো আটক ইস্যুতে বিভক্ত আমেরিকান জনমত

৪৪ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার এই অভিযানের বিপক্ষে এবং ২৭ শতাংশ পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

৩৬ শতাংশ আমেরিকান এই পদক্ষেপকে ‘দৃঢ়ভাবে বা আংশিকভাবে সমর্থন’ করেন, ৩৯ শতাংশ তা ‘দৃঢ়ভাবে বা আংশিকভাবে বিরোধিতা’ করেন, এবং ২৫ শতাংশ এ ব্যাপারে নিশ্চিত নয়।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের ঘটনায় খোদ যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষই এখন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। সিবিএস নিউজ এবং ইউগভ-এর সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে এই বিভক্তির চিত্র ফুটে উঠেছে। সোমবার প্রকাশিত এ জরিপ অনুযায়ী, মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পক্ষে এবং বিপক্ষে মার্কিন নাগরিকদের অবস্থান প্রায় সমান। খবর দ্য হিল।

জরিপ অনুযায়ী, ৩৬ শতাংশ আমেরিকান এই পদক্ষেপকে ‘দৃঢ়ভাবে বা আংশিকভাবে সমর্থন’ করেন, ৩৯ শতাংশ তা ‘দৃঢ়ভাবে বা আংশিকভাবে বিরোধিতা’ করেন, এবং ২৫ শতাংশ এ ব্যাপারে নিশ্চিত নয়।

জরিপে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বিরোধিতার হার সবচেয়ে বেশি (প্রায় ৬০ শতাংশ বা তার বেশি), যেখানে খুবই ক্ষুদ্র অংশই এ উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন। আর ৬৬ শতাংশ রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন এবং মাত্র ১৩ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন।

স্বাধীন বা নন-পার্টিজান ভোটারদের মধ্যে মতামত আরো বিভক্ত। ৪৪ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার এই অভিযানের বিপক্ষে এবং ২৭ শতাংশ পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ ধরনের সামরিক বা আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলায় বেশি জড়িয়ে পড়বে বলে ৭২ শতাংশ মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

জরিপে আরো দেখা গেছে, অনেক আমেরিকান মনে করেন এই পদক্ষেপের পর দেশটিতে ও দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যতে কী হবে তা অস্পষ্ট ও অনিশ্চিত। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ব্যক্তি মনে করেন মাদুরো অপসারণের ফলে ভেনিজুয়েলার পরিস্থিতি উন্নত হবে, আর প্রায় সমপরিমাণই ধারণা করেন তা আরো খারাপ পরিস্থিতির দিকে যেতে পারে।

মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অপরাধের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে এনে বিচারের সম্মুখীন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মাদক-সন্ত্রাস, কোকেন আমদানি, অস্ত্র ও ধ্বংসাত্মক ডিভাইস সংক্রান্ত অভিযোগ। এই মামলায় তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এই বিতর্কিত অভিযান সম্পর্কে মার্কিন গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কংগ্রেসের অনুমোদন থাকা উচিত ছিল এবং জনগণের মতানৈক্য তুলে ধরেছে যে দীর্ঘমেয়াদি যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ও নীতিতে অনেক আমেরিকানই উদ্বিগ্ন।

আরও