আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে সোমবার ভোরে মাজার-ই-শরিফ শহরের কাছে শক্তিশালী ৬ দশমিক ৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এই ঘটনায় কমপক্ষে দশজন নিহত এবং প্রায় ১৫০ জন আহত হয়েছেন। খবর রয়টার্স।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, মাজার-ই-শরিফের কাছে ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৮ কিলোমিটার (১৭ দশমিক ৪ মাইল) গভীরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। মাজার-ই-শরিফের জনসংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ২৩ হাজার।
মাজার-ই-শরিফের নিকটবর্তী উত্তরাঞ্চলীয় পার্বত্য প্রদেশ সামাঙ্গানের স্বাস্থ্য বিভাগের মুখপাত্র সামিম জয়ান্দা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, আজ সকাল পর্যন্ত মোট ১৫০ জন আহত এবং দশজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং তাদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেন, এই তথ্য সোমবার সকাল পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে সংগৃহীত রিপোর্টের ভিত্তিতে দেয়া হয়েছে।
ভূমিকম্পের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে ইউএসজিএস তাদের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা পিএজিইআর-এ একটি অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, ভয়াবহ হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে এবং দুর্যোগটি সম্ভবত ব্যাপক আকার ধারণ করতে যাচ্ছে।
বালখ প্রদেশের মুখপাত্র হাজি জাইদ জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের ফলে মাজার-ই-শরিফের পবিত্র মাজার শরিফ বা ব্লু মসকিউ-এর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দেশের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ প্রতিবেদন পরে প্রকাশ করা হবে। সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকাপড়া লোকদের উদ্ধারের প্রচেষ্টার ভিডিও এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ছবি শেয়ার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত আগস্ট মাসে আফগানিস্তানে একটি ভূমিকম্প এবং এর ধারাবাহিক আফটারশকের ফলে হাজার হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল এবং আহত হয়েছিল কয়েক হাজার।
দুটি প্রধান সক্রিয় ফল্টের ওপর অবস্থিত হওয়ায় আফগানিস্তান ভূমিকম্পের জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। ২০১৫ সালে উত্তর-পূর্ব আফগানিস্তানে আঘাত হানা ভূমিকম্পে আফগানিস্তান এবং কাছাকাছি উত্তর পাকিস্তানে কয়েকশ মানুষ নিহত হয়েছিল। এছাড়া, ২০২৩ সালেও আরেকটি ভূমিকম্পে কমপক্ষে সহস্রাধিক মানুষ প্রাণ হারায়।