সরকার হস্তক্ষেপ না করলে আগামী ১৫ বছরে বিশ্বজুড়ে গবাদিপশু পালনে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। এতে মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের কার্যকারিতা আরো কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বে ব্যবহৃত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যবহার হয়। অনেক দেশে এসব ওষুধের ব্যবহার পর্যবেক্ষণ দুর্বল। রোগ প্রতিরোধের পাশাপাশি মাংস উৎপাদন বাড়াতেও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়।
এফএওর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৪০ সালে গবাদিপশুতে বছরে ১ লাখ ৪৩ হাজার টনের বেশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবহার হবে। এটি ২০১৯ সালের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি এবং ২০১৩ সালের সর্বোচ্চ ব্যবহারের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যাবে।
তবে সংস্থাটি বলছে, কৃষকদের উন্নত উৎপাদন পদ্ধতি শেখানো গেলে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন কমবে। কারণ অতিরিক্ত ব্যবহারে ওষুধের কার্যকারিতা কমে যায়, যা প্রাণিসম্পদ খাতেই ২০৪০ সালের মধ্যে ৩১৮ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিপরীতে প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিকারী অ্যান্টিবায়োটিক বন্ধ করতে সম্ভাব্য ব্যয় মাত্র ৫৩ বিলিয়ন ডলার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ প্রবণতা সুপারবাগ বা ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণুর বিস্তারের অন্যতম কারণ। ইউরোপেই প্রতি বছর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধের কারণে প্রায় ১১ বিলিয়ন ইউরো ক্ষতি হচ্ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক ক্ষতি ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সেপ্টেম্বর থেকে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করে উৎপাদিত সব মাংস, দুধ ও ডিম আমদানি নিষিদ্ধ করছে। বিশেষজ্ঞরা যুক্তরাজ্যকেও একই পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।