উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাতের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২৫ আগস্ট) হোয়াইট হাউসে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আগ্রহের কথা জানান। খবর সিএনএন।
দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংকে প্রথমবারের মতো হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানানোর সময় ট্রাম্প ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ভবিষ্যতে সুবিধামতো সময়ে কিম জং উনের সঙ্গে দেখা করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। আমি এই বছর তার সঙ্গে দেখা করতে চাই।’
পরে বৈঠকে ট্রাম্প ও লি কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করেন। জুন মাসে নির্বাচিত হওয়া দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি ট্রাম্পকে অনুরোধ করেন দুই কোরিয়ার মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করতে। তিনি বলেন, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদকালে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল।
লি বলেন, ‘আমি মনে করি আপনি বিশ্ব শান্তি বিষয়ে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী ও বাস্তব সাফল্য অর্জন করা প্রথম প্রেসিডেন্ট। তাই আমি আশা করি আপনি কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠা করবেন, কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।’
তিনি আরো বলেন, ট্রাম্প যদি ‘শান্তির দূত’ হতে চান, তবে তিনি সক্রিয়ভাবে সমর্থন করবেন। তার মতে, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে চলমান উত্তেজনা সমাধান করার মতো একমাত্র ব্যক্তি ট্রাম্পই। কোরীয় যুদ্ধ ১৯৫৩ সালে অস্ত্রবিরতির মাধ্যমে শেষ হলেও এখনো শান্তি চুক্তি হয়নি—এ প্রেক্ষাপটে দুই দেশ কার্যত যুদ্ধাবস্থাতেই রয়েছে।
লি’র এ সফর দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্টের জন্য বড় এক কূটনৈতিক পরীক্ষা। একইসঙ্গে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কারণে বাণিজ্য ও সামরিক ইস্যুতে ওয়াশিংটন-সিউল সম্পর্ক চাপে রয়েছে। সফরে লি’র সঙ্গে ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ কোম্পানিগুলোর সিইও ও ব্যবসায়ী নেতারা। যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল বিনিয়োগের ঘোষণা দেন তারা।
তবে এ ধরনের বৈঠক আদৌ সম্ভব হবে কিনা তা অনিশ্চিত। ট্রাম্পের মন্তব্যের বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া আসলে কোরীয় উপদ্বীপ দখল করার প্রস্তুতি। এদিকে কিম জং উন ও তার বোন কিম ইয়ো জং সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তারা উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার ধরে রাখবেন আর আক্রমণের শিকার হলে দক্ষিণ কোরিয়াকে ধ্বংস করে দেবেন।
লি বৈঠকের পর দাবি করেন, উত্তর কোরিয়া বছরে ১০ থেকে ২০টি নতুন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করেছে। তিনি যদিও কোনো প্রমাণ দেননি। ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টস-এর পরমাণু তথ্য প্রকল্পের পরিচালক হ্যান্স ক্রিস্টেনসেন বলেন, এ সংখ্যা প্রচলিত ধারণার চেয়ে বেশি, যা সম্ভবত অতিরিক্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা ইঙ্গিত দেয়।