পেট্রল ও ডিজেল থেকে অতিরিক্ত শুল্ক কমাল ভারত

ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় আজ প্রকাশিত এক নির্দেশনায় পেট্রলের অতিরিক্ত শুল্ক প্রতি লিটার ১৩ রুপি থেকে কমিয়ে ৩ রুপি করেছে। ডিজেলের ক্ষেত্রে পুরোপুরি বাদ দেয়া হয়েছে, যা আগে ছিল ১০ রুপি

পেট্রল ও ডিজেলের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক (স্পেশাল এক্সসাইজ ডিউটিজ) কমিয়েছে ভারত। চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে সরবারহজনিত মূল্য অস্থিরতার মাঝে এ পদক্ষেপ নিয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ অর্থনীতির দেশটি। খবর রয়টার্স।

ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় আজ প্রকাশিত এক নির্দেশনায় পেট্রলের অতিরিক্ত শুল্ক প্রতি লিটার ১৩ রুপি থেকে কমিয়ে ৩ রুপি করেছে। ডিজেলের ক্ষেত্রে পুরোপুরি বাদ দেয়া হয়েছে, যা আগে ছিল ১০ রুপি।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট ইরান যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজের প্রণালি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এটি বিশ্বের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ আমদানির পথ হিসেবে কাজ করে। একই প্রভাব পড়েছে গ্যাস সরবরাহেও।

তবে শুল্ক কমানোর ফলে ভারত সরকারের বাড়তি খরচ কত হবে তা প্রকাশ করেনি মন্ত্রণালয়।

এমকায় গ্লোবালের অর্থনীতিবিদ মাধবী অরোরার প্রাক্কলন অনুযায়ী, বছরে এর প্রভাব হতে পারে প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার কোটি রুপি।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, বর্তমান দাম থেকে অতিরিক্ত শুল্ক কমানোর ফলে অটো জ্বালানি বিক্রেতাদের বার্ষিক ক্ষতির প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ কমে যাবে।

ভারত অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যের অস্থিরতা এবং জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্নের কারণে প্রভাবিত হয়েছে। তবে চীনের মতো এটি পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি নিষিদ্ধের মতো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার সরকার জোর দিয়ে বলছে, জ্বালানি সরবরাহে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে গ্রীষ্মকালীন বপনের মৌসুমের জন্য সার সরবরাহ এবং বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে কয়লা সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম জ্বালানি তেল আমদানিকারক ও ভোক্তা ভারত। দেশটি জ্বালানি তেলের চাহিদার ৯০ শতাংশের বেশি আমদানির মাধ্যমে মেটায়।

গত বছর ৩ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার টন রান্নার গ্যাস ব্যবহার করেছে ভারত। এর চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয়। আর আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।

আরও