লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা

আত্মরক্ষায় অস্ত্র চালনা ও মার্শাল আর্ট শিখছেন দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীরা

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকায় নারী হত্যার হার বৈশ্বিক গড় হারের চেয়ে পাঁচ থেকে ছয় গুণ বেশি। ২০২২ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশটির ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের মধ্যে ৩৫ শতাংশেরও বেশি শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রেই এসব সহিংসতার শিকার হন তারা নিজগৃহে বা পরিচিতদের মাধ্যমে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় উদ্বেগজনক হারে নারী নির্যাতন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই নিজেদের সুরক্ষায় অস্ত্র চালনা এবং মার্শাল আর্ট শিখছেন সাধারণ নারীরা। সম্প্রতি দেশটির সরকার নারী সহিংসতাকে ‘জাতীয় বিপর্যয়’ হিসেবে ঘোষণা করার পর এই প্রবণতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রিটোরিয়ার কাছে ব্রঙ্কহর্স্টস্প্রুট এলাকার একটি শুটিং রেঞ্জে কিশোরী থেকে শুরু করে বৃদ্ধা—সব বয়সী নারীদের পিস্তল চালনার প্রশিক্ষণ নিতে দেখা যাচ্ছে। খবর এপি।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকায় নারী হত্যার হার বৈশ্বিক গড় হারের চেয়ে পাঁচ থেকে ছয় গুণ বেশি। ২০২২ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশটির ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের মধ্যে ৩৫ শতাংশেরও বেশি শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রেই এসব সহিংসতার শিকার হন তারা নিজগৃহে বা পরিচিতদের মাধ্যমে। অধিকার রক্ষা কর্মীরা জানান, দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১৫ জন নারী লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার কারণে প্রাণ হারান।

৫১ বছর বয়সী সুনেট ডু টয়েট নামে এক নারী জানান, তার বাড়িতে পাঁচজন অস্ত্রধারী ডাকাত ঢুকে তাকে বেঁধে রেখে সবকিছু লুট করে নিয়ে যায়। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর তিনি নিজেকে রক্ষায় অস্ত্র চালনা শিখতে শুরু করেন। তিনি বলেন, নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে এবং জনসম্মুখে বা নিজের ঘরে নির্ভয়ে চলাফেরা করতেই আমি এই প্রশিক্ষণ নিচ্ছি। তার মতো অনেক নারীই এখন এই ধরনের প্রশিক্ষণ গ্রুপগুলোকে নিজেদের জন্য এক বড় অবলম্বন মনে করছেন।

ফোরওয়েজের গ্রেসি জিউ-জিৎসু মার্শাল আর্টস স্কুলে আত্মরক্ষার কৌশল শিখছে নারী শিক্ষার্থীরা

অস্ত্র চালনার পাশাপাশি জোহানেসবার্গের মতো বড় শহরগুলোতে মার্শাল আর্ট বা জুজুৎসুর প্রতিও নারীদের আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে আক্রমণকারীর হাত থেকে ছুটে আসা বা নিজেকে রক্ষা করার কৌশলগুলো তারা গুরুত্ব দিয়ে শিখছেন। জিম প্রশিক্ষক স্টিফানি গ্রাহাম বলেন, যদিও এটি কোনো শতভাগ গ্যারান্টি দেয় না, তবুও এটি একজন নারীর আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে আগেভাগে সচেতন হতে সাহায্য করে।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা নারী সহিংসতাকে জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণা করে এই খাতে বিশেষ তহবিল বরাদ্দ করেছেন। তবে অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, কাগজে-কলমে আইন থাকলেও এর বাস্তবায়ন খুবই দুর্বল। পরিসংখ্যান বলছে, দেশটিতে ধর্ষণের ঘটনায় সাজার হার মাত্র ৮ শতাংশ। এছাড়া নারী ও শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রের অভাবও প্রকট।

নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক নারী এখন পুলিশের ওপর নির্ভর না করে নিজেরাই আত্মরক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের মতে, কর্তৃপক্ষকে সম্মান জানানো উচিত, কিন্তু বিপদের সময় তারা সবসময় পাশে থাকে না। তাই প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে নারীরা এখন অস্ত্র পরিচালনা আর মার্শাল আর্টকেই তাদের শেষ ভরসা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।

আরও