ইউরোপের বহিঃসীমান্তগুলোয় গত বছর অন্তত ৮০ হাজার ৮৬৫টি অবৈধ ‘পুশব্যাকের’ ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ব্রাসেলসভিত্তিক সংগঠন ১১.১১.১১-সহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর একটি জোটের প্রতিবেদনে এ তথ্য ওঠে এসেছে। খবর আনাদোলু।
‘পুশব্যাক’ বলতে প্রতিবেদনে বোঝানো হয়েছে, অভিবাসন প্রত্যাশীদের আশ্রয়প্রক্রিয়ায় প্রবেশের সুযোগ না দিয়ে জোরপূর্বক সীমান্ত পেরিয়ে ফেরত পাঠানো। এ ধরনের ঘটনায় অনেক সময় সহিংসতাও ঘটে।
বলকান রুটে পুশব্যাকের শিকার এক মিসরীয় তরুণ বলেন, ‘আমাদের ভোর তিনটার দিকে নদীতে ছুড়ে ফেলে দেয়।’
৪০ জনের একটি দলের সঙ্গে ভ্রমণ করছিলেন ওই তরুণ, যাদের মধ্যে ১২ জন ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাদের মারধর করা হয়, পোশাক খুলে নেয়া হয়। তারপর বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা সীমান্ত এলাকায় একটি নদীতে ঠেলে ফেলে দেয়া হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপীয় আইন এবং জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনের অধীনে এ ধরনের আচরণ পুরোপুরি অবৈধ। পুশব্যাক ‘নন-রিফাউলমেন্ট’ নীতির লঙ্ঘন। এ নীতি অনুসারে, কারো সুরক্ষা প্রয়োজন আছে কি-না তা যাচাই না করে তাকে ফেরত পাঠানো নিষিদ্ধ।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পুশব্যাক কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এটি একটি ‘পদ্ধতিগত নীতি’ হিসেবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইউরোপিয়ান কোর্ট অব হিউম্যান রাইটস নিশ্চিত করে, গ্রিসে অবৈধ পুশব্যাক বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং একটি পদ্ধতিগত কৌশলের অংশ।
এছাড়া সমুদ্রপথে প্রাণঘাতী ঘটনাসহ সহিংসতার অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। গ্রিক কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজের সঙ্গে চলতি মাসের শুরুর দিকে অভিবাসন প্রত্যাশীদের একটি নৌকা ধাক্কা খায়, এতে ১৫ জন নিহত হন। জীবিতরা দাবি করেন, উপকূলে পৌঁছাতে নৌকাটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়া হয়েছিল।
বুলগেরিয়ার বিরুদ্ধেও প্রাণঘাতী পুশব্যাকের অভিযোগ উঠেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, নথিভুক্ত পুশব্যাকের সংখ্যা প্রকৃত পরিস্থিতির তুলনায় কম হতে পারে। অনেক ঘটনা দুর্গম সীমান্ত এলাকা বা সমুদ্রে ঘটে, যা সহজে সামনে আসে না।
১১.১১.১১-এর অভিবাসন নীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ফ্লর ডিডেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) অভিবাসনবিরোধী অভিযানগুলো সাধারণত সংবাদমাধ্যম থেকে বিভিন্ন সংস্থার নজরদারিতে থাক। এ বিষয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়। অন্যদিকে অভিবাসন বিষয়ে ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম ততটা গুরুত্ব পায়নি।
ডিডেন প্রশ্ন তোলেন, ‘ইউরোপীয় সীমান্ত কর্তৃপক্ষ যখন মানুষকে নির্যাতন করে, লুটপাট করে এবং মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়, তখন সেই একই নৈতিক স্পষ্টতা কোথায়?’
প্রতিবেদনে ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিবাসন প্রত্যাশীদের ওপর নজর দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। অবৈধ পুশব্যাক বন্ধ, আশ্রয়প্রক্রিয়ায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত এবং সব অভিবাসীর নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সুরক্ষা দিতে বলছে সংস্থাগুলো।