অপ্রাপ্তবয়স্ক মানব পাচার, অর্থ পাচার, অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক এবং সাক্ষীকে প্রভাবিত করার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সার অ্যান্ড্রু টেটকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করেছে রোমানিয়ার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। শুক্রবার তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়। একই মামলায় তার ভাই ট্রিস্টান টেটকেও সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। খবর রয়টার্স।
সাবেক কিকবক্সার দুই ভাই যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিক। যুক্তরাজ্যের প্রত্যর্পণের অনুরোধের পর গত জুলাইয়ের শেষ দিকে মিয়ামিতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। ২০১৭ সাল থেকে মূলত রোমানিয়ায় বসবাস করা টেট ভাইদের বিরুদ্ধে ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে মানব পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে তদন্ত চলছে।
রোমানিয়ার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের অভিযোগ, প্রেমের সম্পর্ক বা বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুক্তভোগীদের প্রলুব্ধ করতেন টেট ভাইয়েরা। পরে তাদের ওয়েবক্যাম ব্যবসার জন্য পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি করতে বাধ্য করা হতো। তবে তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন তারা।
তাদের রোমানিয়ান আইনজীবী ইউজেন ভিডিনিয়াক বলেন, অভিযোগপত্রের প্রতিটি বিষয় তারা সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করবেন। প্রমাণ, প্রক্রিয়াগত বা আইনি কোনো ঘাটতি থাকলে যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ায় তা চ্যালেঞ্জ করা হবে।
টেট ভাইদের বিরুদ্ধে তদন্তকারী রোমানিয়ার সংগঠিত অপরাধবিরোধী প্রসিকিউশন ইউনিট ডিআইআইসিওটি জানিয়েছে, অ্যান্ড্রু টেট ২০১২ সালে যুক্তরাজ্যে এক ভুক্তভোগীকে প্রলুব্ধ করেন। তখন তার বয়স ছিল ১৫ বছর। পরে তাকে বুখারেস্টে নিয়ে গিয়ে শারীরিক সহিংসতা ও মানসিক ভয়ভীতি দেখিয়ে যৌনভাবে শোষণ করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরিতেও তাকে বাধ্য করা হয়।
ডিআইআইসিওটির ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রিস্টান টেটও এতে সহযোগিতা করেন এবং ভুক্তভোগীকে বাধ্য করতে শারীরিক নির্যাতন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, ওই ভুক্তভোগীর ভিডিওচ্যাট থেকে পাওয়া ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলার নিজেদের কাছে রেখেছিলেন টেট ভাইয়েরা। এটি ছিল তার মোট আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ। এছাড়া অর্থ পাচারের জন্য তারা চারটি বিলাসবহুল গাড়ি কেনার চেষ্টা করেন।
যুক্তরাজ্যে ধর্ষণের অভিযোগে প্রত্যর্পণের অনুরোধের পর টেট ভাইয়েরা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে কারাগারে রয়েছেন। তাদের যুক্তরাজ্যে প্রত্যর্পণ করা হবে কিনা, তা নিয়ে বিচারকের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাদের প্রত্যর্পণের জন্য রোমানিয়া আবেদন করবে কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে ডিআইআইসিওটির মুখপাত্র।
রোমানিয়ায় অনুপস্থিতিতেও তাদের বিচার করা সম্ভব। তবে এখনই বিচার শুরু হচ্ছে না। দেশটির আইনে অভিযোগপত্র প্রথমে প্রাথমিক আদালত চেম্বারে পাঠানো হবে। সেখানে বিচারক মামলার নথি পরীক্ষা করে অভিযোগ ও তদন্তের প্রক্রিয়া আইনসম্মত হয়েছে কিনা, তা যাচাই করবেন। আইনে এ প্রতিবেদন চূড়ান্ত করতে ৬০ দিন সময় দেয়া হলেও বাস্তবে এ প্রক্রিয়া প্রায়ই আরো বেশি সময় নেয়।
এর আগে মানব পাচারের অভিযোগে রোমানিয়ায় টেট ভাইদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের শেষ দিকে বুখারেস্টের আপিল আদালত কিছু প্রমাণ অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করে মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের কাছে ফেরত পাঠান।
নিজেকে নারীবিদ্বেষী হিসেবে পরিচয় দেয়া অ্যান্ড্রু টেট এর আগে বলেছিলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তৎপরতা তুলনামূলক শিথিল হওয়ায় তিনি রোমানিয়ায় চলে গিয়েছিলেন। দ্রুতগতির গাড়ি ও সুন্দরী নারীদের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে বিলাসবহুল ও অতিরিক্ত পুরুষতান্ত্রিক জীবনযাপনের ভাবমূর্তি তৈরি করে দুই ভাই মূলত তরুণদের মধ্যে বড় অনুসারী গোষ্ঠী গড়ে তুলেছেন।