কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

আরো দীর্ঘ হওয়ার পথে সাসু এনগুয়েসোর ৪২ বছরের শাসন

কঙ্গো প্রজাতন্ত্র সাব-সাহারান আফ্রিকার তৃতীয় বৃহত্তম তেল উত্তোলনকারী দেশ হলেও এর সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ৬১ লাখ মানুষের মধ্যে ৫২ শতাংশই দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দিশেহারা। রাজধানী ব্রাজাভিলের অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন না

মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে গতকাল প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশটির শাসক ডেনিস সাসু এনগুয়েসোর ৪২ বছরের শাসনকাল আরো দীর্ঘায়িত হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৮২ বছর বয়সী এ বর্তমান প্রেসিডেন্ট পঞ্চমবারের মতো ক্ষমতায় আসার লড়াইয়ে নেমেছেন, যদিও প্রধান বিরোধী দলগুলো নির্বাচন বর্জন করেছে। খবর আলজাজিরা ও রয়টার্স।

গতকাল স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হয় সন্ধ্যা ৬টায়। কঙ্গোর প্রায় ৩২ লাখের বেশি মানুষ ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত থাকলেও বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার উপস্থিতির হার এবার ২০২১ সালের তুলনায় কম হতে পারে। গত নির্বাচনে সাসু এনগুয়েসো ৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন। ভোটার উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৬৮ শতাংশ।

সাসু এনগুয়েসো ১৯৭৯ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসেন। এরপর থেকে ১৯৯০-এর দশকের মাত্র পাঁচ বছরের বিরতি ছাড়া তিনি টানা দেশ শাসন করছেন। এবারের নির্বাচনে তার বিপরীতে ছয়জন স্বল্প পরিচিত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতাসীন এ নেতার প্রতিপক্ষ হিসেবে শক্ত চ্যালেঞ্জ গড়ে তোলার মতো সক্ষমতা বা জনপ্রিয়তা তাদের কারোরই নেই।

দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ থমথমে। কঙ্গোর প্রধান বিরোধী নেতাদের মধ্যে দুজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং অনেকে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। প্রধান বিরোধী দলগুলো নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভোট বর্জন করেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা কঙ্গোর রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফ্রিডম হাউজের প্রতিবেদনে দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম দমনমূলক রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

কঙ্গোর প্রধানমন্ত্রী আনাতোল কলিনেট মাকোসো অবশ্য বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে। তবে সমালোচকদের মতে, দেশের নির্বাচনী সংস্থাগুলো মূলত ক্ষমতাসীন কঙ্গোলিজ লেবার পার্টির অনুগত ব্যক্তিদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

কঙ্গো প্রজাতন্ত্র সাব-সাহারান আফ্রিকার তৃতীয় বৃহত্তম তেল উত্তোলনকারী দেশ হলেও এর সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ৬১ লাখ মানুষের মধ্যে ৫২ শতাংশই দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দিশেহারা। রাজধানী ব্রাজাভিলের অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন না।

সাসু এনগুয়েসো তার নির্বাচনী প্রচারণায় মূলত ‘উন্নয়নের ধারাবাহিকতা’ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি নতুন কর্মসংস্থান এবং শিক্ষা খাতের প্রসারের কথা বলেছেন। সমর্থকরা মনে করেন, দেশের স্থিতিশীলতার জন্য তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি, একই ব্যক্তির দীর্ঘ শাসন দেশের গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করছে।

ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ৪৮-৭২ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করা হতে পারে। নির্বাচনের পরবর্তী তেলসমৃদ্ধ এই দেশে ক্ষমতার কোনো পরিবর্তন আসে কি-না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক মহল।

আরও