বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা: ইসরায়েলের ওপর কি চটেছেন ট্রাম্প?

বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র ইরানের সাউথ পার্সে হামলা চালায় ইসরায়েল। এর জবাবে কাতারের একটি জ্বালানি স্থাপনায় হামলা করে ইরান। পাল্টাপাল্টি এ হামলার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

ইরান ও কাতারের যৌথ মালিকানাধীন একটি গ্যাসক্ষেত্রে হামলার পর পরিস্থিতি নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র ইরানের সাউথ পার্সে হামলা চালায় ইসরায়েল। এর জবাবে কাতারের একটি জ্বালানি স্থাপনায় হামলা করে ইরান। পাল্টাপাল্টি এ হামলার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

ঘটনার পর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানকে হুমকি দেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, ইসরায়েল যে এ হামলার পরিকল্পনা করছে সে বিষয়ে তিনি আগে থেকে অবগত ছিলেন না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কড়া ভাষায় ট্রুথ সোশ্যালে এ পোস্ট করেছেন

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই সংঘাত নিয়ে কতটা একমত, তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে হামলার বিষয়ে অজ্ঞতার দাবি দুই দেশের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

যদিও তার এ বক্তব্য হামলার পর ইসরায়েলের একাধিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সম্পূর্ণ বিপরীত। মধ্যপন্থী সংবাদপত্র ইয়েদিওথ আহরোনোথ রিপোর্ট করেছে, হামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগে থেকেই সমন্বয় করা হয়েছিল এবং প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল।

আরো এক ধাপ এগিয়ে ডানপন্থী পত্রিকা ইসরায়েল হায়োম দাবি করেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত সপ্তাহের শেষে পারস্য উপসাগরীয় তিনটি দেশের নেতাদের সঙ্গে আসালুয়েহ-তে আসন্ন ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অন্যান্য অনেক দাবির মতো এখানেও বক্তব্যের সত্যতা আসলে কতটা সেটি নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।

ইসরায়েলি হামলা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প যে শব্দগুলো বেছে নিয়েছেন, তাও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেছেন, 'ক্রোধের বশবর্তী হয়ে' গ্যাসক্ষেত্রের ওপর 'হিংস্রভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছে ইসরায়েল'।

এ ধরণের ভাষা সাধারণত ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার বর্ণনা দিতে ব্যবহার করেন তিনি, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ঘনিষ্ঠ মিত্রের সুপরিকল্পিত সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে নয়।

আরও