১১ সপ্তাহের অবরোধের পর গাজায় ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করলেও এখনো কোনো সহায়তা বিতরণ শুরু হয়নি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। মঙ্গলবার (২০ মে) ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানায়, কেরেম শালোম সীমান্ত দিয়ে ৯৩টি ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে— যেগুলোতে ছিল ময়দা, শিশুখাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম। তবে জাতিসংঘ জানিয়েছে, ত্রাণ নিয়ে তাদের দল কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এলাকায় প্রবেশের অনুমতি পায়নি। খবর বিবিসি।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফেন দুজারিক বলেন, ‘সরবরাহ পৌঁছানো ইতিবাচক, তবে এটি আসলে প্রয়োজনের তুলনায় একফোঁটা জল মাত্র।‘ গাজার চরম মানবিক সংকট মোকাবেলায় প্রতিদিন ৬০০টি ট্রাক প্রয়োজন বলে জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর ধারণা।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার সতর্ক করে বলেন, সহায়তা দ্রুত প্রবেশ না করলে গাজায় ১৪ হাজার শিশু মারাত্মক অপুষ্টির কারণে মারা যেতে পারে। যদিও এই সংখ্যা নিয়ে পরে ব্যাখ্যা দিয়ে ইউএনওসিএইচএ জানায়, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়কালে প্রায় ১৪ হাজার ১০০ শিশু মারাত্মক অপুষ্টিতে আক্রান্ত হতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।
ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে ‘নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়ে যুক্তরাজ্য ঘোষণা দিয়েছে, তারা ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি সহ্য করা যায় না।‘ একইসঙ্গে, ইউরোপীয় ইউনিয়নও ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের বাণিজ্য চুক্তি পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘ত্রাণ প্রবেশের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। যদিও এটি যথেষ্ট নয়, তবুও এটি শুরু।‘
ইসরায়েল গত বছরের ৭ অক্টোবর গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, এরপর থেকে গাজায় অন্তত ৫৩ হাজার ৪৭৫ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে সাম্প্রতিক অভিযানেই প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার ৩৪০ জন।