শরণার্থী, অভিবাসী ও অন্যান্য সেবার জন্য কংগ্রেস অনুমোদিত ৮১ কোটি ডলারের তহবিল বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রশাসনের দাবি, এসব খাতে ব্যয় অপ্রয়োজনীয়। হোয়াইট হাউজের বাজেট ব্যবস্থাপনা ও নির্বাহী কার্যালয়ের (ওএমবি) এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর সিএনএন।
‘পকেট রেসিশন’ নামে পরিচিত প্রস্তাবিত কাটছাঁট প্যাকেজটি ট্রাম্পের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনের কাছে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছে। এতে বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, আবাসন ও নগর উন্নয়ন এবং বিচার বিভাগের বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ বাতিলের প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি কাটছাঁট আন্তর্জাতিক সহায়তা কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
হোয়াইট হাউজের দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘সবচেয়ে অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয়’ বন্ধ করতে চাইছেন। তবে কয়েকজন আইনপ্রণেতা এ উদ্যোগের সমালোচনা করে একে কংগ্রেসের ক্ষমতা পাশ কাটিয়ে করা একটি অবৈধ ‘লাইন-আইটেম ভেটো’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
হোয়াইট হাউজ রেসিশনের প্রস্তাব জমা দেয়ার পর সংশ্লিষ্ট তহবিল স্থগিত থাকে এবং এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য কংগ্রেস ৪৫ দিন সময় পায়। তবে ৩০ সেপ্টেম্বর অর্থবছর শেষ হওয়ায় তহবিলগুলো কার্যত বাতিল হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
প্রস্তাবিত কাটছাঁটের একটি অংশে সংখ্যালঘু মালিকানাধীন ব্যবসা উন্নয়ন সংস্থার (এমবিডিএ) কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ ৫ কোটি ডলারের মধ্যে ১ কোটি ডলার বাতিলের কথা বলা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই অর্থ ‘অসাংবিধানিক জাতিভিত্তিক উদ্দেশ্যে’ বরাদ্দ করা হয়েছে।
আরেকটি রেসিশনের মাধ্যমে শরণার্থী ও আগমনকারী সহায়তা খাতের ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার বাতিল করা হবে। এ তহবিল স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের (এইচএইচএস) শরণার্থী পুনর্বাসন কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অর্থায়ন করে।
হোয়াইট হাউজের যুক্তি, ট্রাম্পের সীমান্তনীতি সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের ঘটনা কমিয়ে দিয়েছে। তাই শরণার্থী পুনর্বাসন কার্যালয়কে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি অর্থ দেয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবিত কয়েকটি কাটছাঁট হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) তহবিলেও করা হচ্ছে। এর মধ্যে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) তত্ত্বাবধানে থাকা কিন্তু আটক না থাকা ব্যক্তিদের কেস ম্যানেজমেন্ট সেবা দেয়া ‘অলটারনেটিভস টু ডিটেনশন—কেস ম্যানেজমেন্ট পাইলট প্রোগ্রাম’-এর ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার বাতিলের প্রস্তাব রয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এর মাধ্যমে ‘অপ্রয়োজনীয় ও অপচয়মূলক ব্যয়’ বন্ধ হবে।
এছাড়া বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের ইংরেজি শেখানো এবং মার্কিন ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা দেয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জনে সহায়তা করা ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের ‘সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইন্টিগ্রেশন’ অনুদান কর্মসূচির আরো ১ কোটি ডলার বাতিল করা হবে। ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, ডিএইচএস এরই মধ্যে কর্মসূচিটি স্থগিত করেছে এবং আগের বছরগুলোয় দেয়া অনুদানও বাতিল করেছে।
গত বছর ইমপাউন্ডমেন্ট কন্ট্রোল অ্যাক্টের আওতায় ‘পকেট রেসিশন’ ব্যবহার করে ৪৯০ কোটি ডলারের বৈদেশিক সহায়তা বাতিল করে ট্রাম্প প্রশাসন। ১৯৭৭ সালে জিমি কার্টার প্রেসিডেন্ট থাকার সময়ের পর এটিই ছিল এ ধরনের ক্ষমতা ব্যবহারের প্রথম ঘটনা।
এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউজ বলেছে, ‘গত বছর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইমপাউন্ডমেন্ট কন্ট্রোল অ্যাক্টের আওতায় তাকে দেয়া দীর্ঘদিন অব্যবহৃত প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ব্যবহারের মাধ্যমে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেন। ৫০ বছরের মধ্যে প্রথম “পকেট রেসিশন” ব্যবহার করে তিনি ৪৯০ কোটি ডলারের বৈদেশিক সহায়তা বাতিল করেন। এ বছরও তিনি মার্কিন করদাতাদের প্রতি তার অঙ্গীকার অব্যাহত রাখছেন এবং প্রায় আরো ১০০ কোটি ডলারের সবচেয়ে ক্ষতিকর সরকারি ব্যয় বাতিল করতে পকেট রেসিশন ব্যবহার করছেন।’