‘গাজার যুদ্ধ শেষ হয়েছে, এখন মধ্যপ্রাচ্য স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে’— এমন ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার ওয়াশিংটন থেকে ইসরায়েলের উদ্দেশে যাত্রার আগে বিমানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ শেষ, এটা সবাই বুঝতে পারছে।‘ খবর রয়টার্স।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের সময় গাজায় তৃতীয় দিনের মতো যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল। ইসরায়েল আশা করছে, সোমবার সকালে হামাসের হাতে আটক জিম্মিরা মুক্তি পাবে। একই দিনে ট্রাম্প ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে ভাষণ দেয়ার পর মিশরের শার্ম আল শেখে বিশ্বনেতাদের শান্তি সম্মেলনে যোগ দেবেন।
ইসরায়েলি সরকার জানিয়েছে, সোমবার সকালে হামাস ২০ জন জীবিত জিম্মিকে মুক্তি দেবে এবং পরে নিহত ২৮ জনের দেহ হস্তান্তর করা হবে। এর বিনিময়ে ইসরায়েল ২৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দি, আটক ১ হাজার ৭০০ গাজাবাসী এবং ২২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ককে মুক্তি দেবে।
তবে বন্দিদের তালিকা নিয়ে আলোচনার প্রক্রিয়া এখনো চলমান বলে জানিয়েছে হামাসের তথ্য অফিস। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে কোনো সিনিয়র হামাস কমান্ডার বা বিশিষ্ট রাজনৈতিক বন্দি থাকছে না।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল ক্যাটজ বলেছেন, জিম্মিদের ফেরত আনার পর গাজায় হামাসের তৈরি ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ধ্বংসের কাজ চালিয়ে যাবে সেনাবাহিনী।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, ‘আগামীকাল থেকে শুরু হবে নতুন পথ— পুনর্গঠন, আরোগ্য ও হৃদয়কে এক করার পথ।‘
গাজা সিটির বাসিন্দা আব্দু আবু সেয়াদা বলেন, ‘মানুষের মধ্যে আনন্দ আছে, কিন্তু দুই বছরের যুদ্ধের ক্লান্তি মুছে যায়নি।‘
হাজার হাজার ফিলিস্তিনি এখন উত্তরের দিকে ফিরছে। যদিও সেখানেও রয়েছে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ। মানবিক সহায়তা সংগঠনের প্রধান আমজাদ আল শাওয়া বলেন, অন্তত ১৫ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দিতে ৩ লাখ অস্থায়ী তাঁবুর প্রয়োজন।
গাজার বাসিন্দা রামি মোহাম্মদ-আলি বলেন, ‘গাজা সিটিতে ফিরে আমরা আনন্দিত, কিন্তু একই সঙ্গে হৃদয় ভেঙে গেছে। সর্বত্র ধ্বংসস্তূপ, রাস্তায় এখনো মানুষের দেহাবশেষ পড়ে আছে।‘
যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে এই যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এটিকে প্রথম ধাপের শান্তি সমঝোতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।