মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের নির্বাহী আদেশ আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। ৬-৩ ভোটের ব্যবধানে দেয়া এ রায়কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর আল জাজিরা।
২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ট্রাম্প এ বিতর্কিত নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন। যার মূল লক্ষ্য ছিল—যেসব পিতা-মাতার যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ কাগজপত্র নেই কিংবা যারা সাময়িক আইনি মর্যাদায় দেশটিতে রয়েছেন, তাদের সন্তানরা মার্কিন ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণ করলেও যেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব না পায়।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দেয়া রায়ে নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তকে বহাল রেখেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এতে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এ আদেশ মার্কিন সংবিধানের সরাসরি পরিপন্থী। রায় লিখতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস যুক্তরাষ্ট্রের জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের দীর্ঘ ইতিহাস ও আইনি ভিত্তি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রথাটি ব্রিটিশ কমন ল, ১৮৬৮ সালে মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুমোদন ও ১৮৯৮ সালের সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক ‘ইউনাইটেড স্টেটস বনাম ওং কিম আর্ক’ মামলার রায়ের ধারাবাহিকতায় সুপ্রতিষ্ঠিত।
প্রধান বিচারপতি ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবীদের যুক্তি খণ্ডন করে তার লিখিত মতামতে বলেন, দীর্ঘদিনের সুপ্রতিষ্ঠিত আইনটিকে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করার সপক্ষে ট্রাম্প প্রশাসন বা ভিন্নমত পোষণকারী বিচারকরা পর্যাপ্ত প্রমাণ দিতে পারেননি।
এ রায়ের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে রায়ের আগে তিনি তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি নিবন্ধ শেয়ার করেন। এতে বলা হয়েছে, মার্কিন কংগ্রেস চাইলে নতুন আইন পাস করে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নিয়ম পরিবর্তন করতে পারে।