কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই বৃহস্পতিবার ভোরে প্রায় চার ঘণ্টারও বেশি সময় নিজেদের আকাশসীমা বাণিজ্যিক ফ্লাইটের জন্য বন্ধ রেখেছে ইরান। একই সময়ে কাতার ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেয়া ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপের খবর আসায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তীব্রতর হচ্ছে। খবর এপি।
বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত ইরানের আকাশসীমা দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ছিল। পূর্ব-পশ্চিম বিমান চলাচলের প্রধান রুটে ইরান অবস্থিত হওয়ায় এর প্রভাব পড়ে বিশ্বজুড়ে। ভারত ও ইউরোপের এয়ারলাইনসগুলো তাদের রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, আকাশসীমা বন্ধ রাখার অর্থ হতে পারে বড় কোনো সামরিক পদক্ষেপ বা মিসাইল উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি। ২০২০ সালে ভুলে ইউক্রেনীয় বিমান ভূপাতিত করার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে অনেক এয়ারলাইনস এখন ইরান এড়িয়ে চলছে।
এদিকে, কাতারের আল উদেদ বিমান ঘাঁটি থেকে ‘অপরিহার্য নয়’ এমন কয়েকজন কর্মীকে সরিয়ে নেয়া শুরু হয়েছে। কুয়েতেও মার্কিন দূতাবাস তাদের কর্মীদের সামরিক ঘাঁটিগুলোয় যাওয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। গত বছর ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের সময় এ ঘাঁটিগুলো ইরানি মিসাইলের লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় এবার আগেভাগেই সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বুধবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তাকে জানানো হয়েছে ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর চালানো হত্যাকাণ্ড এবং ফাঁসি কার্যকরের পরিকল্পনা আপাতত বন্ধ হয়েছে। অথচ এর একদিন আগেই তিনি বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
ট্রাম্পের এই হঠাৎ সুর পরিবর্তনকে বিশ্লেষকরা যুদ্ধের আগে একটি ‘অফ-র্যাম্প’ বা সুযোগ তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা পুরো বিষয়টি নজরে রাখছি। দেখা যাক কী হয়।‘
অন্যদিকে, মার্কিন হুমকির মুখে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ফক্স নিউজে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কূটনীতির ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ এবং কূটনীতির মধ্যে কূটনীতিই শ্রেষ্ঠ পথ। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের অভিজ্ঞতা সুখকর নয়, তবুও যুদ্ধের চেয়ে আলোচনা অনেক ভালো।‘
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ৬০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং ১৮ হাজারেরও বেশি মানুষ আটক অবস্থায় আছেন।