যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো শহরে বৃহস্পতিবার (২২ মে) ভোরে একটি ছোট জেট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বিমানে থাকা ছয়জনই নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড (এনটিএসবি)। খবর রয়টার্স।
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এনটিএসবির জ্যেষ্ঠ বিমান নিরাপত্তা তদন্তকারী ড্যান বেকার বলেন, পাইলট ও যাত্রীরা সবাই ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন। তবে মাটিতে থাকা কেউ মারাত্মকভাবে আহত কিংবা নিহত হননি।
বেকার জানান, সেসনা ৫৫০ সিটেশন মডেলের বিমানটি স্থানীয় সময় ভোর রাত প্রায় ৩টা ৪৭ মিনিটে সান দিয়েগোর মার্ফি ক্যানিয়ন এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। আঘাতে বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং এতে আশপাশের ঘরবাড়ি ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনে ধসে পড়ে কয়েকটি বাড়ির ছাদ।
অন্তত ১০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান কর্মকর্তারা। যদিও আশপাশের ইউএস নেভি হাউজিং এলাকায় কেউ নিহত হননি। তবে ধোঁয়ার কারণে আটজনকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তাদের অবস্থা গুরুতর নয়।
বিমানটিতে যাত্রী ছিলেন সাউন্ড ট্যালেন্ট গ্রুপ নামের একটি সঙ্গীত শিল্পী প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডেভ শ্যাপিরো, যিনি বিমানের মালিক ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত পাইলট ছিলেন। আরো নিহত হন সংস্থাটির বুকিং অ্যাসোসিয়েট দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা ২৪ বছর বয়সী কেনডাল ফোর্টনার এবং ২৫ বছর বয়সী এমা হিউক।
বিমানটি কেন বিধ্বস্ত হলো তা এখনো পরিষ্কার নয়। এনটিএসবি জানিয়েছে, তারা তদন্ত শেষ করে দুর্ঘটনার পূর্ণ কারণ প্রকাশ করবে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, বিমানের পাইলট কি আগে থেকেই জানতেন যে মন্টগোমারি-গিবস এক্সিকিউটিভ এয়ারপোর্টের রানওয়ে ও গ্লাইড-পাথ লাইটিং সিস্টেম কাজ করছিল না।
ড্যান বেকার বলেন, পাইলট নিয়ন্ত্রণকক্ষে কোনো জরুরি অবস্থা জানিয়ে বার্তা পাঠাননি, কিংবা কোনো ত্রুটির কথাও জানাননি। তিনি আরো জানান, দুর্ঘটনাস্থলে দুই থেকে তিনদিন তদন্ত চালিয়ে এরপর ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার কাজ শুরু করা হবে।