মাল্টার কাছে অভিবাসন প্রত্যাশীদের নৌকাডুবি, ১০ মরদেহ উদ্ধার

আইওএমের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ৯৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত বছর মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন অন্তত ২ হাজার ১৮০ জন

ইতালির কোস্টগার্ড জানিয়েছে, প্রায় ৬০ জন শরণার্থী ও অভিবাসন প্রত্যাশীদের বহনকারী একটি নৌকা মাল্টা দ্বীপের কাছে উল্টে গেছে। এর পর অন্তত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খবর আল জাজিরা।

কোস্টগার্ডের তথ্যানুযায়ী, গতকাল ভূমধ্যসাগরে ডুবে যাওয়া একটি নৌকা থেকে ৪৮ জনকে উদ্ধার করে একটি মাছ ধরার নৌযান। লিবিয়া থেকে যাত্রা শুরু করেছিল অভিবাসী বহনকারী নৌকাটি এবং মাল্টা উপকূল প্রায় ৪৫ নটিক্যাল মাইল বা ৮৩ কিলোমিটার দূরে এটি উল্টে যায়।

এক বিবৃতিতে ইতালির কোস্টগার্ড জানায়, দ্রুত ঘটনাস্থলে একটি টহল বোট পাঠায় তারা, যা এখন পর্যন্ত ১০টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। মাল্টার কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে ওই এলাকায় অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

চলতি বছরে ভূমধ্যসাগরে একের পর এক নৌডুবির ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেয়া সত্ত্বেও ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় শরণার্থী ও অভিবাসীরা এখনো জীবনবাজি রেখে সমুদ্রপথে বিপজ্জনক যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন।

জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম)-এর তথ্যানুযায়ী, ২০১৪ সালের পর থেকে চলতি বছরের শুরু ভূমধ্যসাগর অঞ্চলের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সময়গুলোর একটি।

আইওএমের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ৯৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত বছর মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন অন্তত ২ হাজার ১৮০ জন।

সাম্প্রতিক মৃত্যুগুলো ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) -এর সদস্যরাষ্ট্রগুলো নীতিগতভাবে নতুন কিছু নিয়মে সম্মত হয়েছে। এসব নিয়ম কার্যকর হলে যেসব আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন প্রত্যাখ্যাত হবে, তাদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠিয়ে দেয়ার সুযোগ পাবে সরকারগুলো।

প্রস্তাবিত কাঠামোর অধীনে ইইউর বাইরে তথাকথিত ‘রিটার্ন হাব’ বা প্রত্যাবাসন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। তবে এসব কেন্দ্র কোথায় হবে, তা এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

এদিকে কয়েক দিন আগে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সদর দপ্তরের বাইরে শত শত বিক্ষোভকারী সমাবেশ করেন। তাদের অভিযোগ, সংস্থাটি অবৈধ অভিবাসীদের লিবিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দিতে চাইছে।

বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমাদের দেশের প্রতি ভালোবাসা বর্ণবাদ নয়’ এবং ‘লিবিয়া বিশ্বের আবর্জনার ঝুড়ি নয়’।

লিবিয়ায় জাতিসংঘের মিশন ইউএনএসএমআইএল এক বিবৃতিতে লিবীয়দের মত প্রকাশের অধিকারের প্রতি সমর্থন জানালেও সংস্থাটি তাদের কাজ নিয়ে ‘ভ্রান্ত তথ্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য’ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

তাদের মতে, এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য দেশটিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে এবং জাতিসংঘের স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উসকানি ছড়াতে ভূমিকা রাখছে।

আরও