ইউক্রেনে নতুন আর্থিক সহায়তা এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপে ‘ইউক্রেন সাপোর্ট অ্যাক্ট’ বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। গতকাল বিলটি ২২৬-১৯৫ ভোটে অনুমোদিত হয়। খবর রয়টার্স।
এ ঘটনাকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্য দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
বিলটি দীর্ঘদিন ধরে প্রতিনিধি পরিষদে আটকে ছিল। শেষ পর্যন্ত কিছু রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে মিলে একটি বিশেষ পিটিশনে স্বাক্ষর করে বিলটি ভোটাভুটির জন্য উত্থাপনের পথ তৈরি করেন।
১৮ জন রিপাবলিকান ও একজন স্বতন্ত্র সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একযোগে বিলটির পক্ষে ভোট দেন। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে নিজ দলের সদস্যদের এমন অবস্থানকে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ওলহা স্টেফানিশিনা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের অব্যাহত সমর্থনের প্রতিফলন।
তবে বিলটির ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। আইনে পরিণত হতে হলে এটি সিনেটেও পাস হতে হবে। কিন্তু সিনেটের রিপাবলিকান নেতৃত্ব এখন পর্যন্ত রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত কোনো বিল ভোটে আনতে আগ্রহ দেখায়নি।
তারা বলছে, এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে। এমনকি সিনেটে পাস হলেও ট্রাম্প বিলটিতে ভেটো দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২২ সালে রাশিয়ার আক্রমণের পর যুক্তরাষ্ট্রের উভয় দলের রাজনীতিকরাই ইউক্রেনকে ব্যাপক সমর্থন দিয়েছিলেন।
কিন্তু ২০২৫ সালে ট্রাম্প দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইট হাউজে ফেরার পর রিপাবলিকান নেতৃত্বের একাংশের অবস্থান কিছুটা বদলে যায়। ফলে কিয়েভের প্রতি ওয়াশিংটনের সহায়তাও আগের তুলনায় কমে এসেছে।
নতুন বিলে ইউক্রেনের যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের জন্য এক বিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঋণের মাধ্যমে আরো আট বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সহায়তার সুযোগ রাখা হয়েছে।
এছাড়া রাশিয়ার আর্থিক প্রতিষ্ঠান, জ্বালানি ও খনি খাত ও বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নও ইউক্রেনের সদস্যপদ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার প্রথম ধাপ শুরু করতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ও অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ সহায়তা কর্মসূচিও এগিয়ে নিচ্ছে জোটটি।