রয়টার্স

আলাস্কা বৈঠকে পুতিনের শান্তি প্রস্তাব: ভূমি ছাড়ার শর্তে যুদ্ধের ইতি

ভলোদিমির জেলেনস্কি বারবার বলেছেন, তার দেশ কোনো ভূখণ্ড ছাড়বে না।

পুতিনের প্রস্তাবে রয়েছে— ইউক্রেনকে দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চল থেকে পুরোপুরি সরে আসতে হবে। বিনিময়ে রাশিয়া সুমি ও খারকিভ অঞ্চলের ছোট কিছু এলাকা (৪৪০ বর্গকিমি) ফেরত দেবে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নতুন এক প্রস্তাব দিয়েছেন। সেখানে বলা হয়েছে, কিয়েভকে পূর্বাঞ্চলের বড় অংশ ছাড়তে হবে এবং বিনিময়ে মস্কো দখলকৃত ছোট কিছু ভূমি ফিরিয়ে দেবে। খবর রয়টার্স।

এ প্রস্তাব উঠে এসেছে আলাস্কায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পুতিনের বৈঠকের পর। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এটিই ছিল প্রথম মুখোমুখি সাক্ষাৎ।

শুক্রবারের বৈঠক শেষে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, তিনি ও পুতিন ভূমি হস্তান্তর ও ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তার ভাষায়, ‘আমরা অনেকটা কাছাকাছি পৌঁছেছি। তবে ইউক্রেনকে রাজি হতে হবে—তারা হয়তো নেতিবাচক মনোভাবও দেখাতে পারে।‘

সূত্রমতে, পুতিনের প্রস্তাবে রয়েছে— ইউক্রেনকে দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চল থেকে পুরোপুরি সরে আসতে হবে। বিনিময়ে রাশিয়া সুমি ও খারকিভ অঞ্চলের ছোট কিছু এলাকা (৪৪০ বর্গকিমি) ফেরত দেবে।

অধিকৃত ক্রিমিয়ার ওপর সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি চায় মস্কো। সে সঙ্গে, ইউক্রেনকে ন্যাটোতে যোগ না দেয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে। ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেয়ার ব্যাপারেও পুতিনকে নমনীয় মনে হয়েছে।

ইউক্রেনে রুশ ভাষার সরকারি মর্যাদা এবং রাশিয়ান অর্থডক্স চার্চের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।

যুদ্ধবিরতি কেবলমাত্র পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হলেই কার্যকর হবে বলেও প্রস্তাবে বলা হয়েছে।

তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বারবার বলেছেন, তার দেশ কোনো ভূখণ্ড ছাড়বে না। দোনেৎস্ককে প্রতিরক্ষা কৌশলের জন্য অপরিহার্য মনে করে কিয়েভ। ন্যাটোতে যোগদানও ইউক্রেনের সাংবিধানিক লক্ষ্য।

জেলেনস্কি সোমবার ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন। সেখানে ট্রাম্পের সঙ্গে তিনি এই সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, ইউরোপীয় নেতারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প শনিবার তাদের সঙ্গে ফোনালাপে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রসঙ্গ তুলেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, ন্যাটোর আর্টিকেল ৫-এ বিবৃত প্রতিশ্রুতি থাকতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাটো সদস্যপদ পাবে না ইউক্রেন। ন্যাটোর ৩২টি সদস্যের মধ্যে যেকোনো একটির ওপর আক্রমণকে আর্টিকেল ৫ ধারার অধীনে সব সদস্যের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

রাশিয়ার এই প্রস্তাবকে অনেকে দেখছেন আলোচনার সূচনা হিসেবে, আবার কেউ কেউ মনে করছেন এটি মস্কোর চূড়ান্ত প্রস্তাব। তবে যে কোনো অবস্থায়ই ইউক্রেনের জন্য এটি একটি কঠিন সিদ্ধান্ত— ভূমি হারিয়ে যুদ্ধ থামানো, নাকি লড়াই চালিয়ে যাওয়া।

আরও