কানাডাকে ইইউর সহযোগী সদস্য করার কথা উঠতেই আপত্তি ট্রাম্পের

রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের কারণে ইইউর ২৭টি সদস্যদেশই তাদের সীমান্তে যুদ্ধের মুখোমুখি। একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইইউ ও কানাডা—দুই পক্ষই কঠোর প্রতিযোগিতার মুখে রয়েছে। ক্রমেই প্রভাবশালী হয়ে ওঠা চীনের সঙ্গেও তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ছে

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লিয়েন বলেছেন, কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ করার পথ খুলে দিতে চান তিনি। তবে উদ্যোগটিকে ‘শত্রুতাপূর্ণ পদক্ষেপ’ মনে হলে ইইউর ওপর বড় ধরনের শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর এপি ও সিএনএন।

ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ফন ডের লিয়েনের বার্ষিক ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে গতকাল উপস্থিত ছিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। প্রস্তাবটি দেয়ার পর ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা দাঁড়িয়ে করতালি দেন। এরপর কার্নিকে আলিঙ্গন করেন ফন ডের লিয়েন।

তিনি বলেন, ‘আজকের বিশ্বের ভঙ্গুর’ পরিস্থিতির মধ্যে নতুন অংশীদারত্ব প্রয়োজন। তবে সহযোগী সদস্য হওয়ার অর্থ কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি ফন ডের লিয়েন।

রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের কারণে ইইউর ২৭টি সদস্যদেশই তাদের সীমান্তে যুদ্ধের মুখোমুখি। একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইইউ ও কানাডা—দুই পক্ষই কঠোর প্রতিযোগিতার মুখে রয়েছে। ক্রমেই প্রভাবশালী হয়ে ওঠা চীনের সঙ্গেও তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ছে।

ফন ডের লিয়েন বলেন, ‘আমি বলেছি, আমাদের অংশীদারত্বকে জরুরিভাবে নতুন করে ভাবতে হবে। তাই কানাডাকে ইইউর প্রথম সহযোগী সদস্য করার দরজা খুলে দেয়ার বিষয়ে আমি আপনাদের সঙ্গে কাজ করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে জলবায়ু পরিবর্তন, আর্কটিক থেকে ভূরাজনীতি—সব ক্ষেত্রেই আমরা বিশ্বকে একই চোখে দেখি। আমরা ইউক্রেন, প্রতিরক্ষা, কাঁচামাল ও সরবরাহ চেইনের ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করেছি। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ইউরোপ ও কানাডা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে।’

ফন ডের লিয়েনের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন কার্নি। তার কার্যালয় জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ‘আরো শক্তিশালী ও উচ্চাভিলাষী জোট’ গড়ে তোলার পক্ষে কার্নি। তিনি বলেছেন, ‘কানাডা ও ইউরোপের উচিত কৌশলগত সক্ষমতার পুরো পরিসরে গভীর সহযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা।’

তবে তিনি ‘সহযোগী সদস্য’ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেননি।

ফন ডের লিয়েনের প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইইউ কোনো পদক্ষেপ ‘শত্রুতামূলক পদক্ষেপ’ মনে হলে ইউরোপের ওপর ‘খুব বড় শুল্ক’ আরোপ করতে পারেন অথবা বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে পারেন।

উত্তর ক্যারোলিনায় একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যদি তা করে, আমি এটিকে কোনোভাবেই শত্রুতামূলক পদক্ষেপ মনে করি, তাহলে আমি ইউরোপের ওপর খুব গুরুতর শুল্ক আরোপ করব অথবা অনেক ক্ষেত্রে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে দেব।’

পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যদি এটি ভালো উদ্দেশ্যে করা হয়, তাহলে ঠিক আছে। যদি খারাপ উদ্দেশ্যে করা হয়, তাহলে আমরা ইউরোপের ওপর খুব বড় শুল্ক আরোপ করব—এটি একটি সম্ভাবনা।’

ফন ডের লিয়েন এককভাবে এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে পারবেন না। এটি এগিয়ে নেয়া হবে কিনা, সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ইইউর সদস্যদের। তার প্রস্তাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নবিষয়ক পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ বিভ্রান্তিও প্রকাশ করেছেন।

আইনি মর্যাদা নেই—এমন নমনীয় অংশীদারত্বের বিষয়ে ইইউ ঐতিহাসিকভাবেই সতর্ক। গত মে মাসে ইউক্রেনকে পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়ার পথে একটি ধাপ হিসেবে সহযোগী সদস্য করার প্রস্তাব দিয়েছিল জার্মানি। তখন ইইউর সদস্যদেশগুলো এ বিষয়ে খুব বেশি আগ্রহ দেখায়নি।

ইইউর একজন কূটনীতিক ফন ডের লিয়েনের প্রস্তাবে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘এর অর্থ কী, তা আসলে কেউই জানে না।’ তার ভাষ্য, ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান ‘অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এবং তা বাস্তবায়ন করতে পারবেন না’—এমন উদ্বেগও রয়েছে।

থিংকট্যাংক ইউরোপিয়ান পলিসি সেন্টারের প্রধান নির্বাহী ফ্যাবিয়ান জুলিগ বলেন, দুই পক্ষের জন্য এ উদ্যোগে বড় ধরনের অর্থনৈতিক লাভ হবে বলে মনে করেন না। তবে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে ‘একসঙ্গে অবস্থান নেয়া’ এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তায় সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও