ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে বৃহস্পতিবার অদ্ভুত এক দৃশ্য দেখা গেল—সেনা ইউনিফর্ম পরা শত শত ন্যাশনাল গার্ড সদস্য পর্যটকদের সঙ্গে সেলফি তুলছেন, খাবারের ভ্যানে আইসক্রিম খাচ্ছেন। অথচ এই স্থানটিই রাজধানীর সবচেয়ে নিরাপদ জায়গাগুলোর একটি।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে প্রায় ২,০০০ সেনা ওয়াশিংটনে মোতায়েন করা হয়েছে, যার মধ্যে ১,২০০ জন এসেছেন রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত ছয়টি রাজ্য থেকে। তাদের দায়িত্ব বলা হচ্ছে ‘অপরাধ দমন’, কিন্তু বাস্তবে তাদের রাজধানীর অপরাধপ্রবণ ওয়ার্ড ৮ বা দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে দেখা যাচ্ছেন না। বরং লিঙ্কন মেমোরিয়াল, ওয়াশিংটন মনুমেন্ট কিংবা ক্যাপিটল হিলের মতো পর্যটনকেন্দ্রিক এলাকাতেই বেশি চোখে পড়ছে তাদের। ওয়ার্ড ৮-এর একজন বাসিন্দা শাওয়ানা টার্নার বলেন, ‘আমি কাউকে দেখিনি। এখানেই তাদের থাকা দরকার ছিল।‘
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন জানান, ন্যাশনাল গার্ড সৈন্যদের মোতায়েনের সিদ্ধান্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর অনুরোধের ভিত্তিতে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ন্যাশনাল গার্ড এই মুহূর্তে কাউকে গ্রেফতার করছে না তাদের ভূমিকা হলো ফেডারেল সম্পদ যেমন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের সুরক্ষা দেয়া এবং তাদের দৃশ্যমান উপস্থিতি বজায় রাখা।‘
ওয়াশিংটনের মেয়র মুরিয়েল বাউসার এই সেনা মোতায়েনকে অপরাধ দমনের চেষ্টা হিসেবে মানতে নারাজ। তিনি দেশের রাজধানীতে ‘একটি সশস্ত্র মিলিশিয়ার উপস্থিতি’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার রয়টার্স যেসব সৈন্যদের দেখেছেন, তাদের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না, তবে পেন্টাগন জানিয়েছে, খুব শিগগিরই তারা তাদের সরকারি অস্ত্র নিয়ে অভিযানে নামবে।
সমালোচকরা মনে করছেন, ট্রাম্প মূলত শক্তি প্রদর্শনের জন্যই এই সেনা মোতায়েন করেছেন। অপরাধের হার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কমলেও, ট্রাম্প রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের ভার ফেডারেল সরকারের কাঁধেই নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি এরইমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন—শিকাগো ও নিউইয়র্কের মতো অন্যান্য ডেমোক্র্যাট-শাসিত শহরেও এ ধরনের সেনা মোতায়েন হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় সেনা মোতায়েন বিরল ঘটনা। সাম্প্রতিক ইতিহাসে ওয়াশিংটনে সেনারা এসেছেন প্রেসিডেন্ট শপথ অনুষ্ঠান বা প্রতিবাদ দমনে—সবচেয়ে আলোচিত ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল দাঙ্গায়। এবার যদিও অপরাধ দমনের যুক্তি দেখানো হচ্ছে, কিন্তু সেনাদের অপরাধপ্রবণ এলাকায় নয়, বরং পর্যটন জোনে দেখা যাওয়ায় বিতর্ক আরো বেড়েছে।