রয়টার্সের অনুসন্ধান

ইরানের গোপন নেটওয়ার্কে ৫ সহস্রাধিক সংস্থা, মার্কিন অবরোধ এড়িয়ে ঢুকছে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম

ইরান কীভাবে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপের পরও নিজেদের অস্ত্রভান্ডার আবার পূরণ করছে, তা নিয়ে চলমান যুদ্ধের অন্যতম বড় প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এই অনুসন্ধান নতুন তথ্য সামনে এনেছে। এতে উঠে এসেছে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বোঝাতে ‘এমওডি’ অক্ষর দিয়ে শুরু হওয়া নামের আড়ালে সংস্থাগুলো কাজ করছে।

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচ হাজারের বেশি গোপন সংস্থার একটি নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এসব সংস্থার মাধ্যমে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অন্তত ২ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম, বিস্ফোরক ও ভারী ট্রাক আমদানি করেছে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে এসব পণ্য দেশে আনা হয়েছে বলে রয়টার্সের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

ইরান কীভাবে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপের পরও নিজেদের অস্ত্রভান্ডার আবার পূরণ করছে, তা নিয়ে চলমান যুদ্ধের অন্যতম বড় প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এই অনুসন্ধান নতুন তথ্য সামনে এনেছে। এতে উঠে এসেছে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বোঝাতে ‘এমওডি’ অক্ষর দিয়ে শুরু হওয়া নামের আড়ালে সংস্থাগুলো কাজ করছে। পণ্য পরিবহনের চালান, ব্যাংক হিসাব ও সরকারি নথি বিশ্লেষণ করে তাদের কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া গেছে। কয়েকটি সংস্থার সঙ্গে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং দেশটির প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের যোগসূত্র রয়েছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ১৮ মাসে এমওডি ৩৪৬৪২৮ নামের একটি সংস্থা রকেটে ব্যবহারের জন্য বিপুল পরিমাণ জ্বালানির উপাদান, বিস্ফোরক, অস্ত্রের যন্ত্রাংশ ও ভারী ট্রাক আমদানি করেছে। এসব পণ্যের অনেকগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব। স্থলপথ, সমুদ্রপথ ও আকাশপথে পণ্যগুলো ইরানে এসেছে। নথিতে উৎস হিসেবে চীন, রাশিয়া ও জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের নাম রয়েছে।

রয়টার্সের অনুসন্ধান বলছে, গোপনীয়তার চাদরে ঢাকা সংস্থাগুলোর সবার ঠিকানার সঙ্গে তেহরানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীর রসদ বিভাগের (এমওডিএএফএল) ঠিকানার মিল রয়েছে। নথিতে তাদের নিবন্ধনের তারিখ দেখানো হয়েছে ১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি রাজতন্ত্র উৎখাতের পর ইরানের ক্ষমতায় আসেন। তবে নথি অনুযায়ী, সংস্থাগুলোর অধিকাংশই প্রকৃতপক্ষে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরানের অপরিশোধিত তেল রফতানি ও মুদ্রার মূল্য কমে গিয়েছিল।

ইসরায়েলি-আমেরিকান ঝুঁকি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ২৪০ অ্যানালিটিকসের সঙ্গে যৌথভাবে এসব সংস্থার কার্যক্রম অনুসন্ধান করেছে রয়টার্স। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অবৈধ তেল বিক্রির অর্থ দিয়ে সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য সংস্থাগুলো বিদেশী মধ্যস্থতাকারী ও কাগুজে কোম্পানির নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। এসব মধ্যস্থতাকারীকে সম্মিলিতভাবে ‘ট্রাস্টি’ বলা হয়।

যেভাবে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলছে কার্যক্রম

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মিয়াদ মালেকি বলেন, এই নেটওয়ার্ক ইরানের সামরিক কর্মকাণ্ড টিকিয়ে রাখার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। তার ভাষায়, এটি ইরানের সামরিক বাণিজ্যের পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা।

রয়টার্সের পর্যালোচনা করা চালানের ৯৭ শতাংশের ক্ষেত্রে লেনদেন হয়েছে ‘মুদ্রা স্থানান্তর ছাড়াই’। সীমান্ত পেরিয়ে সরাসরি অর্থ পাঠালে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের নজরে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এ ঝুঁকি এড়াতে বিদেশে বসবাসকারী মধ্যস্থতাকারীরা বিদেশী ব্যাংকে থাকা নগদ অর্থ দিয়ে পণ্য কেনেন এবং সেগুলো ইরানে পাঠান।

নেটওয়ার্কটির মাধ্যমে পণ্য পাওয়া পক্ষগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম পরিচালনাকারী সামরিক ইউনিট। আরেকটি পক্ষ সাহারা থান্ডার। রাশিয়ার কাছে ড্রোন তৈরি ও সরবরাহের অভিযোগে ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই ড্রোন ইউক্রেনে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।

রয়টার্সের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইরানে আসা পণ্যের মধ্যে ছিল ১৯ লাখ ডলারের ডেটোনেটর, কয়েক টন বিস্ফোরক, উড়োজাহাজের ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ, রকেট জ্বালানির উপাদান ও ভারী উৎক্ষেপণযান। অস্ত্র ও নিষেধাজ্ঞা বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উপাদান শাহেদ সিরিজের ড্রোনসহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরি এবং উৎক্ষেপণে ব্যবহার করা সম্ভব।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক পিটার স্যালিসবারি বলেন, এটি ইরানের বিদ্যমান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের বহর পুনর্গঠন বা সম্প্রসারণের একটি শিল্পমাত্রার প্রচেষ্টা বলে মনে হচ্ছে। তার মতে, তথ্যগুলো ইরানের সামরিক সরবরাহব্যবস্থার পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার সক্ষমতা এবং নতুন পথ খুঁজে বের করার সামর্থ্যের প্রতিচ্ছবি।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচির বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। পেন্টাগনের দাবি, এসব স্থাপনায় অস্ত্র ও গোলাবারুদ তৈরি করা হচ্ছিল। তবে হামলায় কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স। এদিকে ইরান প্রতিবেশী দেশগুলো এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা জাহাজগুলোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে।

ব্যাংক নথিতে হাজার হাজার হিসাবের সন্ধান

২৪০ অ্যানালিটিকসের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক নোয়াম বিনস্টক জানান, ২০২৫ সালের জুনে তিনি প্রথম এসব সংস্থার সন্ধান পান। টেলিগ্রাম ও উইকিইরানে পাওয়া ব্যাংক সেপাহের হাজার হাজার পৃষ্ঠার নথি তিনি বিশ্লেষণ করছিলেন। ব্যাংক সেপাহ আইআরজিসির সদস্যদের বেতন ও পেনশন পরিশোধ করে।

বিনস্টক দেখতে পান, হাজার হাজার ব্যাংক হিসাব একই ধরনের নামের সংস্থাগুলোর। প্রতিটি নামের শুরুতে ছিল ‘এমওডি’ অথবা ফারসি ভাষায় ‘ভিওডিজেএ’, এরপর পাঁচ বা ছয় অঙ্কের একটি সংখ্যা। সব সংস্থার নিবন্ধনের তারিখ ও ঠিকানাও ছিল একই। ব্যাংকের নথিতে হিসাবধারীর নাম, পরিচিতি নম্বর ও জমা অর্থের তথ্য ছিল। বিনস্টক বলেন, প্রথমবার হিসাবগুলোর স্থিতি দেখে তার মনে হয়েছিল, হয়তো দশমিকের অবস্থান ভুল পড়েছেন।

তিনি দেখতে পান, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ ৩৬টি সংস্থার বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবে জমা ছিল ১২০ কোটি ডলার। নেটওয়ার্কের অন্য সংস্থাগুলোর হিসাবে স্থানীয় মুদ্রায় জমা ছিল প্রায় ১৮০ কোটি ডলার। প্রতিটি হিসাবে গড়ে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার সমপরিমাণ অর্থ ছিল।

ব্যস্ততার কারণে প্রকল্পটি কিছুদিন স্থগিত রাখার পর চলতি বছরের আগস্টে আবার কাজ শুরু করেন বিনস্টক। সাম্প্রতিক নথি বিশ্লেষণ করে তিনি দেখতে পান, একই সংস্থাগুলো অবৈধ তেল বিক্রির অর্থ পাচ্ছে এবং বিপুল পরিমাণ দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য সরঞ্জাম কিনছে।

প্রতিটি এমওডি সংস্থার একটি স্বতন্ত্র ১১ অঙ্কের সরকারি পরিচিতি নম্বর ছিল। ইরানের সরকারি কোম্পানি নিবন্ধনভান্ডারেও সেগুলোর নাম পাওয়া যায়। পণ্য পরিবহনের চালান, চালানপত্র ও ব্যাংক হিসাবে এসব পরিচিতি নম্বর বারবার ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে মধ্যস্থতাকারী কোম্পানি ব্যবহার করা হলেও নেটওয়ার্কটির কার্যক্রম অনুসরণ করা সম্ভব হয়েছে।

ব্যাংক সেপাহের তথ্য চুরির দায় কোডব্রেকার্স নামের একটি গোষ্ঠী স্বীকার করেছিল। পরে তারা ইরান সরকারের আরো কিছু তথ্যভান্ডারে সাইবার হামলার ঘোষণা দেয়। উইকিইরান জানিয়েছে, তাদের কাছে থাকা নথিগুলো আসল এবং ইরানের ভেতরে ও বাইরে থাকা সূত্রের মাধ্যমে সেগুলোর উৎস যাচাই করা হয়েছে।

এক সংস্থার আমদানি ২৩০ কোটি ডলারের

নেটওয়ার্কের মধ্যে এমওডি ৩৪৬৪২৮ বিশেষভাবে নজরে আসে। ইরানের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত শুল্ক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মার্চে শেষ হওয়া ১২ মাসে সংস্থাটির আমদানি ব্যয় ছিল ৪৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। পরবর্তী ১২ মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৮ কোটি ৮০ লাখ ডলারে। এর ফলে সংস্থাটি ইরানের শীর্ষ ১০ আমদানিকারকের মধ্যে স্থান পায়।

ইমপোর্টজিনিয়াসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এমওডি ৩৪৬৪২৮ মোট ২৩০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম আমদানি করেছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে সংস্থাটি চীন থেকে ৮৮৬ টন রাসায়নিক পদার্থ আমদানি করে। এসব পণ্য বন্দর আব্বাসে পৌঁছায়। নথিতে রাসায়নিকগুলোর উৎস হিসেবে চীনের নাম ছিল। এগুলোর মধ্যে সোডিয়াম ক্লোরেট ও অন্যান্য পারক্লোরেট থাকতে পারে, যা কঠিন রকেট জ্বালানি তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

সর্বশেষ চালান পৌঁছানোর তিনদিন পর বন্দর এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণ সম্পর্কে জানেন, এমন দুজন ব্যক্তি বলেছেন, ২৬ এপ্রিলের ওই ঘটনায় বন্দরের পণ্য রাখার কনটেইনারে সোডিয়াম পারক্লোরেটে আগুন ধরে গিয়েছিল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, রাসায়নিকগুলো সংরক্ষণ করছিল সিনা পোর্ট অ্যান্ড মেরিন সার্ভিসেস ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটি বুনিয়াদ মোস্তাজাফানের মালিকানাধীন। এটি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বড় ফাউন্ডেশন।

বিস্ফোরণে অন্তত ৭০ জন নিহত ও ১ হাজার ২০০ জনের বেশি আহত হন। সে সময় সিনার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছিলেন, প্রয়োজনীয় নথি ও পরিচিতি চিহ্ন ছাড়াই একটি চালান সরবরাহ করা হয়েছিল এবং এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে ‘ভুল তথ্য’ দেয়ার কারণে বিস্ফোরণ ঘটে। তবে শেষ ৭৫ টনের চালানের রাসায়নিক ওই বিস্ফোরণের জন্য দায়ী ছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স।

২০২০ সালে বুনিয়াদ মোস্তাজাফানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, দাতব্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত হলেও এটি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের সম্পদ বাড়ানো ও তার মিত্রদের পুরস্কৃত করার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।

ফাউন্ডেশনটির প্রধান হোসেইন দেহঘান। ২০১৩ সালে তিনি ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হন এবং চার বছর এ দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ১৯৮৩ সালে বৈরুতে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর বোমা হামলার সময় লেবাননে আইআরজিসি বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন তিনি। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, ওই হামলায় ২৪১ জন মার্কিন সেনা ও ৫৮ জন ফরাসি প্যারাট্রুপার নিহত হন। লেবাননের বেসামরিক নাগরিকেরাও প্রাণ হারান। হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বিস্ফোরণ, এমওডি সংস্থাগুলো কিংবা ফাউন্ডেশনে তার ভূমিকা সম্পর্কে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও দেহঘন কোনো জবাব দেননি।

ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে ব্যবহারযোগ্য ট্রাক আমদানি

ক্ষেপণাস্ত্রের জ্বালানি তৈরির উপাদানের পাশাপাশি ইরান ভারী ট্রাকও আমদানি করছে। সামরিক বাহিনী এসব ট্রাককে ছদ্মবেশী চলমান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণযান হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

২০২২ সালে ইতালিতে বসবাসকারী এক ইরানি গাড়ি ব্যবসায়ী ৪ লাখ ২৬ হাজার ইউরো দিয়ে ছয়টি আইভেকো ইউরোকার্গো ট্রাক কেনেন। উইকিইরানের নথি অনুযায়ী, পরে তিনি ট্রাকগুলো দুবাইয়ের দেইলামি ট্রেডিং কোম্পানিতে পাঠান। দেইলামি সেগুলো বন্দর আব্বাসে পৌঁছে দেয়।

নথিতে চূড়ান্ত ক্রেতার পরিচিতি নম্বরটি এমওডি ৩৪৬৪২৮-এর সঙ্গে মিলে যায়। প্যাকিং তালিকা অনুযায়ী, ট্রাকগুলো শেষ পর্যন্ত সাহারা থান্ডারের কাছে পৌঁছায়। এ লেনদেন সম্পর্কে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও দেইলামি সাড়া দেয়নি।

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে এমওডি ৩৪৬৪২৮ আরও ৪৩৫টি আইভেকো ট্রাক আমদানি করে। স্যাটেলাইট চিত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য ও আমদানি নথি ব্যবহার করে রয়টার্স ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তেহরানের উপকণ্ঠের একটি শুল্ক এলাকায় এসব ট্রাকের কয়েকটিকে শনাক্ত করে।

যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড একটি ভিডিও প্রকাশ করে। তাদের দাবি, এতে ছদ্মবেশী ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযানে হামলার দৃশ্য রয়েছে। ভিডিওতে দেখা ট্রাকটি এমওডি ৩৪৬৪২৮-এর আমদানি করা যানবাহনের একটি কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স। তবে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান জেনিসের বিশ্লেষকদের মতে, বিস্ফোরিত ট্রাকটি আইভেকোর এমন একটি মডেল, যা ইরান আমদানি করেছে।

আইভেকো জানিয়েছে, তাদের অনুমোদিত পরিবেশকদের নিশ্চিত করতে হয় যে পণ্যগুলো সামরিক, রাসায়নিক, জৈবিক বা পারমাণবিক কাজে ব্যবহার করা হবে না। নিষিদ্ধ গন্তব্য, প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাছে পণ্য পৌঁছানো ঠেকাতে কোম্পানিটির চুক্তিভিত্তিক সুরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে।

কোম্পানিটির দাবি, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পণ্য স্থানান্তর বা পুনরায় রফতানির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। ২০২২ সালে ইতালিতে ইরানি ব্যবসায়ীর কাছে ট্রাক বিক্রির কোনো নথি তাদের কাছে নেই। ২০২৫ সালে তেহরানের শুল্ক এলাকায় রয়টার্সের শনাক্ত করা অধিকাংশ ট্রাকের গন্তব্য মধ্য এশিয়া ছিল বলেও দাবি করেছে তারা।

এ ছাড়া এমওডি ৩৪৬৪২৮-এর মাধ্যমে ইরান হাজার হাজার টয়োটা হাইলাক্স ও ল্যান্ড ক্রুজার ট্রাক আমদানি করেছে। আইআরজিসি ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলো এসব ট্রাকের পেছনের খোলা অংশে ভারী মেশিনগান বসিয়ে ব্যবহার করে। চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরানের বিক্ষোভের সময় ধারণ করা ভিডিওতে উত্তরাঞ্চলীয় শহর টনকাবনে ল্যান্ড ক্রুজারের বহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মেশিনগান নিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এমওডি ৩৪৬৪২৮ চারটি টয়োটা টুন্ড্রা আমদানি করে। আইআরজিসি ড্রোন পরিবহনে এ ধরনের গাড়ি ব্যবহার করে। টয়োটার এক মুখপাত্র বলেছেন, কোম্পানিটি ইরানে কোনো ব্যবসা পরিচালনা করে না এবং রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা কেনাকাটায় তারা জড়িত ছিল না।

জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় জানায়, জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট পণ্যের ওপর তাদের কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। রফতানি নিয়ন্ত্রণের নিয়ম সম্পর্কে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সচেতন করতেও তারা কাজ করে।

চীন, রাশিয়া ও ইউরোপ থেকে আসছে সরঞ্জাম

২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৯৩ টন অপরিশোধিত চীনা টাইটানিয়াম নিয়ে একটি জাহাজ বন্দর আব্বাসে পৌঁছায়। শক্তিশালী এই ধাতু ক্ষেপণাস্ত্রের বাইরের কাঠামো ও রকেট মোটরের আবরণ তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগের মাসজুড়ে জাহাজে করে ইরানে আরো ২৬৮ টন নাইট্রো-সেলুলোজ এবং ২৭৬ টন অন্যান্য রাসায়নিক আনা হয়। নথিতে এসব পণ্যের উৎস হিসেবে চীনের নাম ছিল। রাসায়নিকগুলোর মধ্যে রকেট জ্বালানি ও বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য উপাদান ছিল।

যুদ্ধ ও নৌ অবরোধের মধ্যেও ইরানের সামরিক বাহিনী বিদেশ থেকে সরঞ্জাম আমদানি অব্যাহত রাখে। আমদানি তথ্য অনুযায়ী, মার্চে পণ্য আমদানির মাসিক মূল্য আগের মাসের তুলনায় ৪৭ শতাংশ কমে ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারে নেমে আসে। তবে মে মাসে তা বেড়ে ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলারে পৌঁছায়।

২০২৫ সালের শুরু থেকে রাশিয়া থেকে পাঁচটি চালানে মোট ৭৬ লাখ ডলারের ডেটোনেটর এসেছে। ২০২৬ সালের জুনে ১৯ লাখ ডলারের একটি চালান আসে। ডেটোনেটর বিস্ফোরক, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেডে বিস্ফোরণ ঘটাতে ব্যবহার করা যায়।

আমদানির উৎস শুধু চীন ও রাশিয়া নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন কোম্পানিও ইরানের সামরিক বাহিনীর কাছে পণ্য পাঠিয়েছে। জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য দেশ থেকে আসা হিসেবে নথিভুক্ত কয়েক শ কোটি ডলারের ট্রাক, উড়োজাহাজের ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ ও ইলেকট্রনিক পণ্যের মধ্যে ছিল ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলারের আইভেকো ট্রাক। এসব পণ্যের কাগজপত্রে ক্রেতা হিসেবে এমওডি ৩৪৬৪২৮-এর নাম ছিল।

তবে সব আমদানি নথিতে পণ্যের বিস্তারিত বিবরণ ছিল না। অনেক ক্ষেত্রে শুল্কসংক্রান্ত কোড ব্যবহার করে পণ্যের ধরন ও ঘোষিত উৎস শনাক্ত করতে হয়েছে। সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইউরোপীয় কমিশনের এক মুখপাত্র বলেন, ইইউর নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের দায়িত্ব সদস্যরাষ্ট্রগুলোর। সাহারা থান্ডারসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি শক্তিশালী করার বিষয়ে পাওয়া তথ্য ইইউ সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে জার্মানি ও ইতালি সরকারের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সামরিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে প্রভাবশালী ফাউন্ডেশনের যোগসূত্র

ইরানের অর্থনীতির বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে ‘বুনিয়াদ’ নামে পরিচিত আধা-সরকারি ফাউন্ডেশনগুলো। দেশটির প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এসব প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ক্ষমতাচ্যুত রাজপরিবার ও নতুন রাষ্ট্রের শত্রু হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা সম্পদ দিয়ে এসব ফাউন্ডেশনের অনেকগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

রয়টার্সের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ‘ফাউন্ডেশন ফর দ্য প্রিজারভেশন অব রেলিকস অ্যান্ড পাবলিকেশন অব স্যাক্রেড ডিফেন্স ভ্যালুজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্তত দুটি এমওডি সংস্থার লেনদেন হয়েছে। এসব লেনদেনের মধ্যে পণ্য আমদানির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নগদ অর্থ স্থানান্তরও রয়েছে।

ফাউন্ডেশনটির কাজ হলো ‘প্রতিরোধ, আত্মত্যাগ, জিহাদ ও শাহাদাতের সংস্কৃতি’ প্রচার করা। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বৈধতা ও আদর্শ রক্ষার ক্ষেত্রে এটি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রচারমাধ্যম হিসেবে কাজ করে।

উইকিইরানের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ফাউন্ডেশনটি ইলেকট্রনিক পণ্য ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণসংশ্লিষ্ট সরঞ্জামের চারটি চালান গ্রহণ করে। এসব চালানের পরিচিতি নম্বরও এমওডি ৩৪৬৪২৮-এর সঙ্গে মিলে যায়।

এসব সরঞ্জাম কী কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল, তা জানা যায়নি। তবে ফাউন্ডেশনটির নেতৃত্বে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রতিটিতে আইআরজিসির জ্যেষ্ঠ কমান্ডারদের উপস্থিতি রয়েছে। খুজেস্তান প্রদেশে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান শাহভারপুর।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত একটি নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালে জ্বালানির উচ্চমূল্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভের সময় মাহশাহর শহরে শাহভারপুরের অধীনস্থ ইউনিটগুলোর গুলিতে অন্তত ১০০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, সাঁজোয়া যান দিয়ে পালানোর চেষ্টা করা মানুষদের ঘিরে ফেলে বিক্ষোভকারীদের ওপর মেশিনগান থেকে গুলি চালানো হয়েছিল।

এক স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী দাবি করেন, শাহভারপুরের বাহিনী পালিয়ে যাওয়া বিক্ষোভকারীরা যেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেই আখখেতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরেক কর্মীর বক্তব্যেও একই ঘটনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২০ সালে শাহভারপুরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এর পর এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে একজন প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা তাঁর মাথায় চুমু দিয়ে বলেন, নিষেধাজ্ঞা ‘গর্বের বিষয়’।

রয়টার্সের পর্যালোচনা করা একটি নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালে খুজেস্তানে আইআরজিসির নতুন ভবন নির্মাণের জন্য রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি ইস্পাত কোম্পানির কাছে ৫ হাজার কোটি রিয়াল চেয়েছিলেন শাহভারপুর। সে সময় সরকারি বিনিময় হার অনুযায়ী, এর মূল্য ছিল ১০ লাখ ডলারের বেশি। তার স্বাক্ষরযুক্ত নথিতে যে হিসাবে অর্থ জমা দেয়ার কথা বলা হয়েছিল, সেটির হিসাবধারী ছিল এমওডি ৪২৪০০০।

চলতি বছরের শুরুতে খুজেস্তানে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের প্রতিবাদে ইরানজুড়ে শুরু হওয়া আন্দোলনের অংশ ছিল এসব বিক্ষোভ। দুই কর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, শাহভারপুরের বাহিনী আন্দোলন দমন করে। ইরানজুড়ে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং কয়েক দশ হাজার মানুষ কারাবন্দী হন। খুজেস্তানে ওই কর্মীরা ৪৬ জন নিহত ব্যক্তির নাম নথিভুক্ত করেছেন। তাদের দাবি, আইআরজিসি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালালে ৮ ও ৯ জানুয়ারি তাদের অধিকাংশ নিহত হন।

চলতি বছরের শুরুর দিকে একটি কুচকাওয়াজের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের ভিডিওতে খুজেস্তানের একটি শহরে শাহভারপুরের আইআরজিসি সদস্যদের সাদা টয়োটা টুন্ড্রা চালিয়ে যেতে দেখা যায়। এমওডি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আমদানি করা গাড়িগুলোর মধ্যে এ ধরনের গাড়িও রয়েছে। একটি ট্রাকে বহন করা হচ্ছিল উজ্জ্বল গোলাপি রঙের একটি শাহেদ ড্রোন।

রয়টার্সের অনুসন্ধান সম্পর্কে ইরানের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও কোম্পানির কাছে বিস্তারিত প্রশ্ন পাঠানো হলেও তারা জবাব দেয়নি। এর মধ্যে দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ও জেনেভায় জাতিসংঘ মিশন রয়েছে।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলা, সামরিক ও অস্ত্র কর্মসূচিতে অর্থায়ন এবং বিদেশি মুদ্রা সংগ্রহের চেষ্টা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর চাপ বজায় রেখেছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রয়টার্সের বর্ণিত পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত নয়। আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে চীনকে জড়িয়ে ফেলা বা দেশটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে বেইজিং।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, হোয়াইট হাউস ও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারও তাদের দেশ থেকে ইরানে পণ্য পাঠানোর বিষয়ে মন্তব্য করেনি।

রয়টার্সের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ইরানের সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের নেটওয়ার্কটি কেবল অস্ত্র ও যন্ত্রাংশ আমদানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিদেশি ব্যাংক, মধ্যস্থতাকারী, কোম্পানি নিবন্ধন, তেল বিক্রির অর্থ এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের যোগসূত্র কাজে লাগিয়ে এটি পরিচালিত হচ্ছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইরান নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধকালীন অবরোধের মধ্যেও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ অব্যাহত রাখতে পেরেছে বলে অনুসন্ধানে বলা হয়েছে।

আরও