ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা রুখে দিল ফেডারেল আদালত

আদালত জানায়, জাতীয় জরুরি অবস্থার অজুহাতে আমদানি পণ্যে শুল্ক বসানো আইনের সীমা অতিক্রম করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এই রায় কার্যকর থাকলে ট্রাম্পের বহুল আলোচিত কৌশল— উচ্চ শুল্ক বসিয়ে বাণিজ্য অংশীদারদের কাছ থেকে ছাড় আদায়, দেশে উৎপাদন ফেরানো এবং ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্য ঘাটতি কমানোর পরিকল্পনা গুরুতরভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল আদালত বুধবার (২৮ মে) দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যাপক মাত্রায় শুল্ক আরোপের ক্ষমতা খারিজ করে দিয়েছেন। আদালত জানায়, জাতীয় জরুরি অবস্থার অজুহাতে আমদানি পণ্যে শুল্ক বসানো আইনের সীমা অতিক্রম করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতের তিন বিচারকের এক যৌথ রায়ে বলা হয়, ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) আমদানির ওপর শুল্ক আরোপের অনুমতি দেয় না। রায়ে বলা হয়, ‘ট্যারিফ আরোপের কার্যকারিতার বিষয়ে আদালত মন্তব্য করছে না; বরং আইন তা অনুমোদন করে না বলেই সিদ্ধান্তটি অবৈধ।‘

রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন আপিল করার নোটিশ দাখিল করেছে। হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে রায় নিয়ে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলা হয়, ‘একটি জাতীয় জরুরি অবস্থা কীভাবে মোকাবেলা করা উচিত তা নির্ধারণ করবার ক্ষমতা অনির্বাচিত বিচারকদের নেই।‘

তবে আর্থিক বাজারগুলো এই রায়ে স্বস্তি পেয়েছে। ইউরো, ইয়েন এবং সুইস ফ্রাঙ্কের বিপরীতে ডলার দ্রুত শক্তিশালী হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট ফিউচার এবং এশিয়ার শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে।

এই রায় কার্যকর থাকলে ট্রাম্পের বহুল আলোচিত কৌশল— উচ্চ শুল্ক বসিয়ে বাণিজ্য অংশীদারদের কাছ থেকে ছাড় আদায়, দেশে উৎপাদন ফেরানো এবং ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্য ঘাটতি কমানোর পরিকল্পনা গুরুতরভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।

আইইইপিএর আওতায় ১০ থেকে ৫৪ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের মাধ্যমে দ্রুত চাপ তৈরির ক্ষমতা হারালে ট্রাম্প প্রশাসনকে অপেক্ষাকৃত দীর্ঘমেয়াদি আইনি পন্থা নিতে হবে। এই আদালতের রায় পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সার্কিট কোর্ট এবং প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টেও গড়াতে পারে।

মামলাটি দায়ের করেছিল বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যাদের অন্যতম নিউইয়র্কের একটি ওয়াইন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভিওএস সিলেকশন। প্রতিষ্ঠানের মালিক জানান, এই ট্যারিফের ফলে তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এই মামলায় এক ডজন রাজ্যও অংশ নিয়েছে। ওরেগনের অ্যাটর্নি জেনারেল ড্যান রেইফিল্ড বলেন, ‘এই রায় আমাদের মনে করিয়ে দেয়— আমাদের আইন এখনো কার্যকর আছে। প্রেসিডেন্টের খেয়ালের উপর ভিত্তি করে বাণিজ্যনীতি নির্ধারিত হতে পারে না।‘

ট্রাম্পের শুল্ক সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তি ছিল— বাণিজ্য ঘাটতি একটি জাতীয় জরুরি অবস্থা। কিন্তু মামলার বাদীপক্ষ যুক্তি দেয়, ৪৯ বছর ধরে চলা বাণিজ্য ঘাটতি কখনোই ‘অস্বাভাবিক হুমকি’ হিসেবে গণ্য হতে পারে না।

হোয়াইট হাউজের নীতিবিষয়ক ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার এক সামাজিক পোস্টে বলেন, ‘এই বিচারিক অভ্যুত্থান নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।‘ তবে ট্রাম্প নিজে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

আরও