রয়টার্স

উৎসব মৌসুমকে সামনে রেখে ভারতে স্বর্ণের চোরাচালান বাড়ছে

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণ আমদানিকারক ও ব্যবহারকারী দেশ ভারত। দেশটিতে আসন্ন উৎসবগুলোকে সামনে রেখে স্বর্ণের চোরাচালান বেড়ে গেছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন ভারতীয় সরকারি ও বাণিজ্যিক খাতের কর্মকর্তারা। এজন্য আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের রেকর্ডমূল্য ও সরবরাহ সংকটকে দায়ী করছেন তারা।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণ আমদানিকারক ও ব্যবহারকারী দেশ ভারত। দেশটিতে আসন্ন উৎসবগুলোকে সামনে রেখে স্বর্ণের চোরাচালান বেড়ে গেছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন ভারতীয় সরকারি ও বাণিজ্যিক খাতের কর্মকর্তারা। এজন্য আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের রেকর্ডমূল্য ও সরবরাহ সংকটকে দায়ী করছেন তারা।

এর আগে গত বছর দেশটিতে স্বর্ণের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬ শতাংশ করা হয়। এতে মূল্যবান ধাতুটির চোরাচালান কমে যায়। তবে দেশটির কাস্টমস ও ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্সের (ডিআরআই) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় দেশটিতে স্বর্ণের চোরাচালান আবারো বেড়েছে। বিভিন্ন বিমানবন্দরে এমন কয়েকটি চোরাচালান প্রচেষ্টা নস্যাৎও করে দিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে চেন্নাইভিত্তিক এক বুলিয়ন ব্যবসায়ী বলেন, আগে ভারতে স্বর্ণ এনে সেটি বিক্রি করে নগদে রূপান্তর করতে সময় ও ঝুঁকি ছিল বেশি। কিন্তু বর্তমানে উৎসব মৌসুমে চাহিদা বাড়ায় এবং সরবরাহ সীমিত থাকায় চোরাচালানকারীরা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা বিক্রি করে ফেলতে পারছে।

চলতি মাসেই মাসে ভারতে ধনতেরাস বা ধনত্রয়োদশীয় ও দীপাবলি উৎসব উদযাপিত হবে। এই দুই উৎসব স্বর্ণক্রয়ের জন্য অত্যন্ত শুভ হিসেবে বিবেচিত এবং প্রতি বছরের এ সময়টিতেই দেশটিতে সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ বিক্রি হয়।

আন্তর্জাতিক বাজারের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভারতের স্থানীয় বাজারেও স্বর্ণ এখন রেকর্ডমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। গতকাল এখানে প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের মূল্য রেকর্ড ১ লাখ ২৮ হাজার ৩৯৫ রুপি (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার টাকার সমপরিমাণ) ছুঁয়ে যায়। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশটিতে স্বর্ণের দাম বেড়েছে ৬৭ শতাংশ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, এ দামে প্রতি কিলোগ্রাম স্বর্ণ চোরাচালান করে গ্রে মার্কেট (অননুমোদিত ও অনানুষ্ঠানিক বাজার) থেকে এককালীন সাড়ে ১১ লাখ রুপি (১৫ লাখ ৯৪ হাজার টাকার বেশি) পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব। কারণ এতে ৬ শতাংশ আমদানি শুল্ক ও ৩ শতাংশ স্থানীয় বিক্রয় কর এড়ানো যায়।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে মুম্বাইভিত্তিক এক জ্যেষ্ঠ বুলিয়ন ব্যবসায়ী রয়টার্সকে বলেন, ‘স্বর্ণের দাম যত বাড়ছে, চোরাচালানকারীদের আয়ও তত বাড়ছে। এখন এটি তাদের জন্য ভীষণ লোভনীয়।’

বুলিয়ন ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিনিয়োগকারীরা এখন স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে সরবরাহে টান পড়েছে এবং এর প্রিমিয়াম বেড়ে যাচ্ছে।

কলকাতাভিত্তিক এক জুয়েলারি ব্যবসায়ী জানান, এ পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোও মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা পুরোপুরি মেটাতে পারছে না এবং সীমিত মজুদের উপর খুব বেশি প্রিমিয়াম ধার্য করছে।

চলতি সপ্তাহে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা প্রতি আউন্স স্বর্ণে স্থানীয় বাজার মূল্যের তুলনায় ২৫ ডলার পর্যন্ত প্রিমিয়াম ধার্য করেছেন, যা এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।

দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে শেষ হওয়া ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ভারতে সরকারি সংস্থাগুলো ৩ হাজার ৫টি স্বর্ণ চোরাচালানের মামলা নথিভুক্ত করেছে। এ সময় মোট চোরাচালানকৃত স্বর্ণ জব্দ হয়েছে মোট ২.৬ টন।

আরও