হত্যাকাণ্ডের আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি দেয়া সর্বশেষ জনসভায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছিলেন, দেশের নিরাপত্তার জন্য প্রতিরোধমূলক অস্ত্র অপরিহার্য। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে জেনেভায় পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ে পরোক্ষ আলোচনা শুরুর পর দেয়া সেই ভাষণের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশিত হয়েছে। খবর রয়টার্স।
আধুনিক ইরানের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তেহরানে স্থানীয় সময় শনিবার সকালে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন তিনি। আজ ভোরে খবরটি নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম।
সেখানে বলা হয়, খামেনি ও তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য শনিবার সকালে তেহরানে তাদের নিজস্ব কম্পাউন্ডে পরিচালিত এক শক্তিশালী বিমান হামলায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
সর্বশেষ ভাষণে প্রতিরোধমূলক অস্ত্রকে ইরানিদের ‘প্রধান প্রয়োজনীয়তা’ হিসেবে উল্লেখ করেন খামেনি। তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক অস্ত্র থাকতে হবে। কোনো দেশের কাছে শত্রুকে ঠেকানোর মতো অস্ত্র যদি না থাকে, তবে সেই দেশ শত্রুর পায়ের নিচে পিষ্ট হবে।‘
তেহরানের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ও সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে এদিন খামেনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কোনো কারণ ছাড়াই ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাচ্ছে। আমাদের কী ধরনের বা কতটুকু পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র থাকবে, সেটি একান্তই ইরানি জাতির বিষয়। এ নিয়ে কথা বলার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই।’
মার্কিন সামরিক শক্তির দাপট নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার দাবি করেন, তাদের সেনাবাহিনী বিশ্বে সবচেয়ে শক্তিশালী। কিন্তু বিশ্বে সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনীও মাঝে-মধ্যে এমন আঘাত পেতে পারে যে তারা আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।’