সমুদ্রের পানিতে মিলল অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জিন

মানুষের যথেচ্ছ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে যে ক্ষতিকর ‘সুপারবাগ’ বা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জিন তৈরি হচ্ছে, তা এখন জনবসতি থেকে দূরে গভীর সমুদ্রের পানিতেও ছড়িয়ে পড়েছে

বিশ্বের বিভিন্ন মহাসাগরীয় অঞ্চলে, এমনকি দূরবর্তী সমুদ্রাঞ্চলেও অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। সোমবার ইতালির রোমে ‘মহাসাগর এবং মানব স্বাস্থ্য’ বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। গবেষণায় বলা হয়, মানুষের যথেচ্ছ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে যে ক্ষতিকর ‘সুপারবাগ’ বা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জিন তৈরি হচ্ছে, তা এখন জনবসতি থেকে দূরে গভীর সমুদ্রের পানিতেও ছড়িয়ে পড়েছে। খবর রয়টার্স।

ইতালির ন্যাশনাল হেলথ ইনস্টিটিউট, দেশটির নৌবাহিনী ও আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি গবেষণা কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে ‘সিএ কেয়ার’ নামের একটি প্রকল্প গবেষণাটি চালায়। এতে ভূমধ্যসাগর, আটলান্টিক, সুমেরু (আর্কটিক), প্রশান্ত এবং ভারত মহাসাগরের ১৪০টিরও বেশি এলাকা থেকে ৪ হাজারেরও বেশি সমুদ্রের পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, প্রায় সব মহাসাগরের পানিতেই অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জিন উপস্থিত রয়েছে। তবে যেসব এলাকায় বড় বড় জাহাজ বেশি চলাচল করে (ব্যস্ত নৌপথ) ও সমুদ্রের তীরবর্তী যেসব এলাকায় মানুষের ঘনবসতি বেশি, সেসব অঞ্চলের পানির নমুনায় এ ক্ষতিকর জিনের উপস্থিতি অনেক বেশি।

বিজ্ঞানীদের মতে, স্থলভাগের শহরের বর্জ্য, নোংরা পানি ও মানুষের ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ নদী বা ড্রেন হয়ে শেষ পর্যন্ত সমুদ্রে গিয়ে মিশছে। সমুদ্রের পানির স্রোতের কারণে এ দূষণ উৎপত্তিস্থল থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনপদেও ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা পুরো মানবজাতির জন্য বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জিন ছাড়াও সমুদ্রের পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক, ফরএভার কেমিক্যালস ও করোনা ভাইরাসের জীবাণু পেয়েছেন গবেষকরা।

ইতালির ন্যাশনাল হেলথ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক আন্দ্রেয়া পিচোলি বলেন, মানুষ পরিবেশে যে দূষণই ছড়াক না কেন, তা পানি, খাদ্য এবং জলবায়ু চক্রের মাধ্যমে ঘুরেফিরে আবার মানুষের কাছেই চলে আসে। তাই মানুষের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সবার আগে সমুদ্রের যত্ন নেওয় জরুরি।"

বিজ্ঞানীদের মতে, সমুদ্রের পানি পরীক্ষা করেই পৃথিবীর ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যঝুঁকি আগেভাগে টের পাওয়া সম্ভব। জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ এবং মানব স্বাস্থ্যের ওপর আসা নতুন নতুন মহামারি বা হুমকি মোকাবিলায় এ তথ্যগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন আইন ও নীতিমালা তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

আরও