ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগের দাবিতে চলা বিক্ষোভ থেকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করেছে পুলিশ। টেনেহিঁচড়ে বিক্ষোভস্থল থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় রাহুল গান্ধীর নাক থেকে রক্ত ঝরতে দেখা যায়।
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) 'সংসদ চলো' পদযাত্রায় শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনার প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আজ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভে করছিলেন কংগ্রেস নেতারা। বিকালে দিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে ওই কর্মসূচি শুরু হয়।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক ঘণ্টা বিক্ষোভ চলার পর সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে কংগ্রেস নেতাদের আটক করতে শুরু করে দিল্লি পুলিশ। প্রথমে আটক করা হয় কংগ্রেস নেতা কানহাইয়া কুমারসহ কয়েকজনকে। এরপর আটক হন এমপি সুখজিন্দর সিং ও সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব।
এরপর পুলিশ রাহুল গান্ধীকে বিক্ষোভস্থল থেকে সরিয়ে দিতে গেলে সেখান থেকে নড়তে অস্বীকৃতি জানান তিনি এবং রাস্তায় বসে পড়েন। এ সময় অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য তাকে ঘিরে ফেলে এবং এক পর্যায়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে নেয়া হয়। তখন তার নাক থেকে রক্ত ঝরতে দেখা যায়।
এ ঘটনার আগে সবাইকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে এসে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান রাহুল গান্ধী। এক পোস্টে তিনি লেখেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মানে প্রতিটি ভারতীয় পরিবারের ওপর হামলা। প্রধানমন্ত্রী মোদি ভাবছেন, তিনি কোনো প্রশ্নের জবাব না দিয়ে এবং কোনো পরিণতি ভোগ না করেই পার পেয়ে যাবেন। তিনি তা পারবেন না—অন্তত এবার নয়।
তিনি আরো লেখেন, আমি দেশের সেই সমস্ত দেশপ্রেমিক ভারতীয়কে, যারা বিশ্বাস করেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা ন্যায়বিচার পাওয়ার যোগ্য, তাদের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনের ধর্নায় (আন্দোলন) যোগ দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। ভারতের শিক্ষার্থীদের কণ্ঠকে উপেক্ষা করা যাবে না।
এর আগে সোমবার মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্ত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে কয়েক হাজার তরুণ সংসদ অভিমুখে মিছিল করেন। এতে নেতৃত্ব দেয় সিজেপি। পথে পুলিশ লাঠিপেটা ও টিয়ারশেল ছুঁড়ে মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হন।
এর প্রতিবাদে আজ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে পদযাত্রা করেন কংগ্রেস নেতারা। লোক কল্যাণ মার্গের কাছে বিপুলসংখ্যক পুলিশের বাধার মুখে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। বিক্ষোভে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা, কে সি বেণুগোপাল, পবন খেরা, পাঞ্জাব কংগ্রেস প্রধান অমরীন্দ সিং রাজা ওয়ারিং, দীপেন্দর হুডা, কর্ণাটকের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারসহ বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য ও নেতা অংশ নেন।
ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরের সড়কে বসে থাকা কংগ্রেস নেতাকর্মীদের সমাবেশের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছেন রাহুল গান্ধী। এ সময় বেশ কয়েকজন নেতা হাত তুলে স্লোগান দিচ্ছিলেন।
এক্সে দেয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী লিখেছেন, গতকাল (সোমবার) তরুণ ও শিক্ষার্থীদের ওপর যে বর্বরতা হয়েছে, সেটির জবাব চাইতে আমরা প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে মিছিল করেছি। সরকার কোনো দায়িত্ব নিতে চায় না, আর সংসদে এ নিয়ে আলোচনাও করতে চায় না। ভারতের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিৎ।
বিক্ষোভের আগে ‘এক্স’ (টুইটার)-এ একটি ভিডিও শেয়ার করে কংগ্রেস। এতে দেখা যায়, রাহুল গান্ধী দলের নেতাদের হাতে জিপ টাই (প্লাস্টিকের শক্ত বাঁধন) তুলে দিচ্ছেন, যা পরে নেতারা তাদের কব্জিতে বেঁধে নেন। পুলিশ যাতে সহজে কাউকে আলাদাভাবে আটক করতে না পারে সেজন্যই তাদের এ পদক্ষেপ।
এদিকে, বিক্ষোভকারীরা যাতে অবস্থান বিক্ষোভে যোগ দিতে না পারে, সে জন্য প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে যাওয়ার পথগুলোতে ব্যারিকেড বসিয়েছে দিল্লি পুলিশ। এমনকি বিক্ষোভচলাকালে সেখান থেকে কয়েকজনকে আটকেরও ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে কংগ্রেসের সংসদ সদস্য কে সুরেশ বলেন, তারা (পুলিশ) আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে নেতাকর্মীদের আটক করছে। পুলিশের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে পাঞ্জাব কংগ্রেস ক্যাম্পেইন কমিটির চেয়ারম্যান চরঞ্জিত সিং চান্নি বলেন, এটি বিজেপির সন্ত্রাসবাদ। তারা শিক্ষার্থীদের কথা শোনেন না।
কংগ্রেসের আরেক সংসদ সদস্য ইমরান মাসুদও একই অভিযোগ করে। তিনি বলেন, বিরোধীদের ঠেলে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে এবং রাজপথে হোক বা সংসদে—সরকার কোথাও তাদের কথা শুনতে ইচ্ছুক নয় বলেই এ বিক্ষোভ করা প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছিল।