ট্রাম্পের নাটকীয় ‘স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণ: নেই নীতি পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত

ভাষণে ট্রাম্প মূলত অর্থনীতির দিকেই বেশি নজর দেন। তিনি বলেন, তার আমলে মূল্যস্ফীতি কমেছে, শেয়ারবাজার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, কর কমেছে সেইসঙ্গে ওষুধের দামও কমেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ লিখিত ভাষণের সঙ্গে বাস্তবতার ফারাক আছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে দাবি করেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ‘স্বর্ণযুগ’ ফিরিয়ে এনেছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল ভবনে দেয়া এক আক্রমণাত্মক ও নাটকীয় ‘স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ দাবি করেন। খবর বিবিসি।

তিনি বলেন, আমেরিকা বর্তমানে এক ঐতিহাসিক ও ‘বিপরীতমুখী পরিবর্তনের’ মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভাষণে ট্রাম্প মূলত অর্থনীতির দিকেই বেশি নজর দেন। তিনি বলেন, তার আমলে মূল্যস্ফীতি কমেছে, শেয়ারবাজার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, কর কমেছে সেইসঙ্গে ওষুধের দামও কমেছে।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ লিখিত ভাষণের সঙ্গে বাস্তবতার ফারাক আছে। জিনিসপত্রের দাম, বাড়ি ভাড়া, বিমা, সবকিছুর ব্যয় আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩৬ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পের অর্থনীতি নিয়ে সন্তুষ্ট।

নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে একাধিক জনমত জরিপ যখন মার্কিন জনগণের অসন্তোষ ও ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রতি আস্থার সংকটের কথা বলছে, তখন দীর্ঘ এ ভাষণে নীতি পরিবর্তনের কোনো বিশেষ ইঙ্গিত মেলেনি। ভাষণে ট্রাম্প তার পুরোনো বক্তব্যই বহাল রেখেছেন। অভিবাসন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে তুমুল বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তিনি।

রিয়েলিটি শো-এর সাবেক সঞ্চালক ট্রাম্প তার পুরো ভাষণজুড়ে বেশ কিছু নাটকীয় মুহূর্ত তৈরি করেন। ভাষণের শুরুতেই তিনি মার্কিন পুরুষ হকি দলকে গ্যালারিতে স্বাগত জানান। তাদের স্বর্ণপদক প্রদর্শনের সময় রিপাবলিকানরা ইউএসএ ইউএসএ স্লোগান দিতে থাকে।

১০৭ মিনিটের দীর্ঘ এ ভাষণটি মূলত দেশপ্রেম ও আমেরিকার অর্জনের ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছিল। কিছু বিচ্ছিন্ন প্রস্তাবের মধ্যে ছিল—শ্রমজীবী আমেরিকানদের জন্য নতুন অবসর সঞ্চয় হিসাব চালু করা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কোম্পানিগুলোর সঙ্গে এমন একটি চুক্তি করা, যাতে তাদের কারখানার জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হয়।

এছাড়া তিনি ভোটারদের নাগরিকত্ব প্রমাণ বাধ্যতামূলক করা, অবৈধ অভিবাসীদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নিষিদ্ধ করা এবং তার বিতর্কিত ট্যারিফ (শুল্ক) ব্যবস্থা বহাল রাখার অঙ্গীকার করেন। গত শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট তার অনেকগুলো শুল্ক সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিলেও ট্রাম্প তার অবস্থানে অনড় থাকার ঘোষণা দেন। এ সময় সামনের সারিতে বসে থাকা প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসসহ অন্য বিচারপতিদের অভিব্যক্তি ছিল নিরুত্তাপ।

ভাষণের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তটি ছিল অভিবাসন ইস্যু। ট্রাম্প যখন অবৈধ এলিয়েনদের" হুমকির কথা বলেন, তখন রিপাবলিকানদের তুমুল করতালি এবং ডেমোক্র্যাটদের ক্ষুব্ধ চিৎকার ও শীতল দৃষ্টির বিনিময় ঘটে।

মিনিয়াপলিসে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় অভিবাসন ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান কিছুটা দুর্বল হলেও, ভাষণে তিনি সে ঘটনার কোনো উল্লেখ করেননি। বরং তিনি অভিবাসীদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধের খতিয়ান তুলে ধরে ইস্যুটিকে পুনরায় নিজের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করেন। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে তিনি বলেন, আমেরিকা ও উন্মুক্ত সীমান্তের মাঝে একমাত্র দেয়াল হিসেবে দাঁড়িয়ে আছেন ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প।"

প্রথা অনুযায়ী পররাষ্ট্রনীতি এ ভাষণে খুব একটা প্রাধান্য পায়নি। ইরানের কাছে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করা হলেও তিনি কোনো দীর্ঘমেয়াদী সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত বলেননি। শুধু জানিয়েছেন, ইরানকে তিনি কখনোই পরমাণু অস্ত্রধারী হতে দেবেন না।

আরও