ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যোগ দিতে সুইজারল্যান্ডে জেডি ভ্যান্স

ভ্যান্স জানিয়েছেন, সুইজারল্যান্ডে এক বা দুই দিনের বেশি থাকছেন না তিনি। মূল আলোচনা দায়িত্ব থাকবে উইটকফ ও কুশনারের ওপর। তবে ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কথা বিবেচনা করলে ভ্যান্সের উপস্থিতি এ আলোচনাকে রাজনৈতিকভাবে আরো গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে

ইরানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এ আলোচনার উদ্দেশ্য তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং ভঙ্গুর অন্তর্বর্তী চুক্তিকে এগিয়ে নেয়া। খবর এপি।

জেডি ভ্যান্স ও তার স্ত্রী মার্কিন সেকেন্ড লেডি উশা ভ্যান্স রবিবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টার একটু আগে সুইজারল্যান্ড পৌঁছান।

অবশ্য এরই মধ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্বর্তী চুক্তিতে দুটি বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়েছে। লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় ক্ষুব্ধ হয়ে তেহরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আরো বলেছে, দেশটির আলোচকরা সুইজারল্যান্ডে গেলেও সেখানে খুব বেশি অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা কম।

গত সপ্তাহে এ কাঠামোগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ আলোচকদের সামনে রয়েছে ৬০ দিনের একটি সময়সীমা, যার মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। এ সিদ্ধান্ত বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

জেডি ভ্যান্সের পরিকল্পনা ছিল শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের লুসার্নের সুন্দর বুর্গেনস্টক রিসোর্টে উপস্থিত থাকা। তবে লেবাননে সংঘর্ষ বাড়ায় তার যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ বিলম্বিত হয় এবং ইরানি কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নেয়ার পরিকল্পনাও বাতিল করেন।

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার দাবি অস্বীকার করেছে। আর জেডি ভ্যান্স বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোয় প্রণালিটি দিয়ে লাখ লাখ ব্যারেল জ্বালানি পরিবহন হয়েছে।

ভ্যান্স যুক্তরাষ্ট্র ছাড়েন ঠিক সেই সময়, যখন ইরানি রাষ্ট্রীয় টিভি জানায় তাদের আলোচকরা সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন। ইরানের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও জ্বালানি তেল খাতের কর্মকর্তারা।

মার্কিন ভাইস প্রেসডেন্টের সঙ্গে আছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

আলোচনায় আরো অংশ নিচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরসহ কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা।

ভ্যান্স জানিয়েছেন, সুইজারল্যান্ডে এক বা দুই দিনের বেশি থাকছেন না তিনি। মূল আলোচনা দায়িত্ব থাকবে উইটকফ ও কুশনারের ওপর। তবে ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কথা বিবেচনা করলে ভ্যান্সের উপস্থিতি এ আলোচনাকে রাজনৈতিকভাবে আরো গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

এ চুক্তি নিয়ে রিপাবলিকান দলের ভেতরেই সমালোচনা চলছে। কট্টরপন্থীরা এটিকে সাবেক ওবামা প্রশাসনের পারমাণবিক চুক্তির সঙ্গে তুলনা করছে, যেটিকে ট্রাম্প ও রিপাবলিকানরা আগে ‘অকার্যকর’ বলে সমালোচনা করেছিলেন।

আরও