'সবকিছুই রেকর্ডকৃত', সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে আমিরাত সরকারের সতর্কবার্তা

অনলাইনে অপমান বা মানহানির জন্য শাস্তির মধ্যে রয়েছে ২৫০,০০০ দিরহাম থেকে ৫০০,০০০ দিরহাম পর্যন্ত জরিমানা ও কারাদণ্ড।

কন্টেন্ট নির্মাতাদের উদ্দেশে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের আপত্তিকর বা অপমানজনক মন্তব্য করার ক্রমবর্ধমান ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ব্যবহারকারীরা প্রায়শই জানেন না যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুসারে এই ধরনের আচরণ একটি ফৌজদারি অপরাধ।

সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা জারি করে বলেছে, অনলাইনে যেকোনো ধরনের কন্টেন্টেই যেন নেতিবাচকতা পরিহার করা হয় এবং আপত্তিকর বা মানহানিকর কোনো কিছু পোস্ট করা বা তাতে মানহানিকর উত্তর প্রদান থেকে যেন ব্যবহারকারীরা বিরত থাকেন।

কন্টেন্ট নির্মাতাদের উদ্দেশে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের আপত্তিকর বা অপমানজনক মন্তব্য করার ক্রমবর্ধমান ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ব্যবহারকারীরা প্রায়শই জানেন না যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুসারে এই ধরনের আচরণ একটি ফৌজদারি অপরাধ।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, সোশ্যাল মিডিয়ার কমেন্টস সেকশনের অপব্যবহার রীতিমতো একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শারজাহ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের পরিচালক কর্নেল ওমর আহমেদ আবু আল জাওয়াদ বলেছেন, ‘একটি পাবলিক পোস্টে মন্তব্য করতে গিয়ে কাউকে মৌখিকভাবে আক্রমণ, উপহাস বা অপমান করার অধিকার কারো নেই।‘ তিনি আরো বলেন, ‘সামাজিক সম্প্রীতির জন্য হুমকিস্বরূপ ডিজিটাল অপরাধের বিরুদ্ধে আমরা দৃঢ় ব্যবস্থা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আইন সুস্পষ্টভাবে বলে, অনলাইনে কাউকে অপমান শাস্তিযোগ্য অপরাধ।‘

তিনি ব্যাখ্যা করেন, ২০২৪ সালের ৫ নং আইন দ্বারা সংশোধিত ২০২১ সালের ফেডারেল ডিক্রি আইন নং ৩৪-এ অনলাইনে অপমান বা মানহানির জন্য কঠোর শাস্তির রূপরেখা দেয়া আছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৫০,০০০ দিরহাম থেকে ৫০০,০০০ দিরহাম পর্যন্ত জরিমানা ও কারাদণ্ড। সরকারি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে অপমানজনক মন্তব্য করলে এই শাস্তি আরো গুরুতর হতে পারে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শারজায় এই ধরনের কয়েক ডজন ঘটনা রেকর্ড করা হলেও, কর্নেল আল জাওয়াদ জোর দিয়ে বলেন, অনেক ব্যবহারকারী জানেন না যে এই ধরনের মন্তব্য তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করতে পারে।

দুবাই পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মেজর আবদুল্লাহ আল শেহিও এ কথার পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ‘লিখিত পোস্ট, ভিডিও, অডিও ক্লিপ, বা লাইভ স্ট্রিম যাই হোক না কেন— এ আইন অনুসারে অপমানজনক বা মানহানিকর যে কোনো মন্তব্য করা নিষিদ্ধ।‘ তিনি আরো বলেন, ‘অনেক ব্যবহারকারী ধরে নেন যে, এ ধরনের মন্তব্য স্বাভাবিক এবং তা ক্ষতিকারক না। কিন্তু প্রতিটি শব্দ রেকর্ড বা ট্রেস করা যায় এবং এর ফলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।‘

তিনি আরো বলেন, ‘কন্টেন্ট নির্মাতাদের ব্যক্তিগতভাবে টার্গেট করা বা উত্তরে অশালীন ভাষা ব্যবহার করা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আমরা সকল ব্যবহারকারীকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার, পরস্পরকে পরস্পরের প্রতি সম্মান দেখানোর এবং সাইবার অপরাধ আইন যে সকলের জন্য প্রযোজ্য তা বুঝতে চেষ্টা করার জন্য অনুরোধ করছি। এ ধরনের আইন যে আছে তা জানতাম না— বলা কোনো অজুহাত নয়।‘

দুবাই কোর্টের আইনি পরামর্শদাতা ওয়ায়েল ওবাইদ নিশ্চিত করেছেন যে, মূল পোস্টের বিষয়বস্তুর পরিবর্তে ব্যবহারকারীদের মন্তব্যের কারণে অনলাইনে মানহানির মামলার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

তাই আমিরাত কর্তৃপক্ষ ব্যবহারকারীদের যেকোনো ধরনের পোস্টে মন্তব্য করার আগে দুবার চিন্তা করার জন্য অনুরোধ করছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘কোনো বিষয়ে আপনি যদি দ্বিমত পোষণ করেন, তাহলে স্ক্রল করে পাশ কাটিয়ে যান অথবা যথাযথ চ্যানেলের মাধ্যমে রিপোর্ট করুন। কিন্তু কখনো অপমানজনকভাবে তার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাবেন না। অনলাইনে কারো প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা বা না করা আপনার অপশন না বরং এটি আইন।‘

সূত্র: খালিজ টাইমস

আরও