পরমাণু পর্যবেক্ষণ নিয়ে নতুন মতবিরোধে ইরান ও আইএইএ

বিষয়টি সামনে আসে যখন পরমাণু নজরদারি প্রতিষ্ঠানটির পরিদর্শকরা ইরানের কারাজ পরমাণু কেন্দ্র পরিদর্শনে বাধাপ্রাপ্ত হন।

পরমাণু কেন্দ্রে নজরদারি নিয়ে নতুন করে বিরোধে জড়িয়েছে ইরান এবং জাতিসংঘের  আন্তর্জাতিক আণবিক সংস্থা (আইএইএ)। বিষয়টি সামনে আসে যখন পরমাণু নজরদারি প্রতিষ্ঠানটির পরিদর্শকরা ইরানের কারাজ পরমাণু কেন্দ্র পরিদর্শনে বাধাপ্রাপ্ত হন। তবে ইরানের দাবি, এটি চুক্তি বহির্ভূত।  

আল জাজিরা জানিয়েছে, আইএইএ’র পক্ষ থেকে বলা হয়, চুক্তি অনুযায়ী রাজধানীর অদূরে অবস্থিত কারাজ পরমাণু কেন্দ্রে পর্যবেক্ষকদের পরিদর্শনের সুযোগ দেয়নি ইরান। 

সংস্থাটি মনে করছে, ইরানের এমন অবস্থান গত ১২ সেপ্টেম্বর ইরানের পরমাণু বিষয়ের প্রধান মোহাম্মদ ইসলামির সঙ্গে আইএইএ-র পরিচালক রাফায়েল গ্রসির মধ্যে তেহরানে স্বাক্ষরিত ইরানের চুক্তির বিরোধী অবস্থান। চুক্তির আওতায় বেনামে থাকা পরমাণু কেন্দ্রগুলোও পর্যবেক্ষণের সুযোগ পায় আইএইএ। এ কারণে সংস্থাটি তাদের ক্যামেরার মেমোরি কার্ডগুলো পরিবর্তন করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রপাতিগুলো পুনরায় মেরামত করে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থান থেকে সরে আসে ইরান। 

ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি কাজেম গারিবাবাদি এক টুইটবার্তায় এ প্রসঙ্গে বলেন, গত এক বছরে ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে তিনটি নাশকতার ঘটনা ঘটে যা অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও এবং তা জাতিসংঘের আইন ও আইএইএর নীতিমালার লঙ্ঘন হলেও আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ আজো তার নিন্দা জানায়নি। রাজধানী তেহরানের কাছেই কারাজে অবস্থিত 'তাসা' পরমাণু কমপ্লেক্সে পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা স্থাপনের অনুমতি ইরান দিচ্ছে না বলে আইএইএ প্রধান যে অভিযোগ করেছেন তার প্রতিক্রিয়ায় কাজেম গারিবাবাদি বলেছেন, ক্যামেরা স্থাপনের ওই দাবি ইরানের সঙ্গে করা চুক্তি বহির্ভূত। তাই ইরান এটা মানতে বাধ্য নয়।

২০১৫ সালে করা পরমাণু চুক্তি পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনার অংশ হিসেবে চলতি মাসের মাঝামাঝি ইরানের সঙ্গে নতুন করে সমঝোতা চুক্তি করে বৈশ্বিক পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা আইএইএ। এই চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা পরিদর্শনের অনুমতি পায়।

আরও