গবেষণা

হিরোশিমা-নাগাসাকির পারমাণবিক হামলায় বেঁচে ফেরাদের ১ শতাংশের মৃত্যু ক্যান্সারে

উচ্চ মাত্রার বিকিরণ ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়, যা পারমাণবিক বোমার ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় সব সময় সামনে থাকে। তবে নতুন এ গবেষণা অন্য কিছু বলছে।

গবেষণাটি করেছেন ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটির ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ফিলিপ থমাস। যেখানে দেখা গেছে, হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে বোমা হামলায় ৩ লাখ ২৪ হাজার জীবিত ফেরেন। তাদের ৩ হাজার ১০০ জন বিকিরণজনিত লিউকেমিয়া বা অন্যান্য টিউমারের কারণে এরই মধ্যে মারা গেছেন বা মারা যাবেন।

জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে মার্কিন পারমাণবিক বোমা হামলার ক্ষতি নিয়ে বেঁচে যান তিন লাখের বেশি মানুষ। বিস্ফোরণ ও বিকিরণ থেকে প্রাথমিকভাবে বেঁচে যাওয়া এ জাপানিদের মধ্যে মাত্র ১ শতাংশেরও কম মানুষ বিকিরণ-সৃষ্ট ক্যান্সারে মারা গেছেন বা যাবেন। সম্প্রতি এমনটা জানিয়েছে বিস্তৃত পরিসরে পরিচালিত নতুন এক গবেষণা। খবর এফটি।

১৯৪৫ সালের আগস্টে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে বোমা দুটি ফেলা হয়। ওই বছরের শেষ নাগাদ বিস্ফোরণের অভিঘাত, তাপ ও তীব্র বিকিরণ বিষক্রিয়ার কারণে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার এবং নাগাসাকিতে প্রায় ৭৪ হাজার মানুষ মারা যান।

গত শনিবার নাগাসাকিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের ওই ভয়াবহ হামলার ৮০তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা বলেন, ‘পারমাণবিক বোমা হামলার নৃশংস প্রভাব সম্পর্কে স্মৃতিগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়া জরুরি।’

উচ্চ মাত্রার বিকিরণ ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়, যা পারমাণবিক বোমার ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় সব সময় সামনে থাকে। তবে নতুন এ গবেষণা অন্য কিছু বলছে।

গবেষণাটি করেছেন ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটির ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ফিলিপ থমাস। যেখানে দেখা গেছে, হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে বোমা হামলায় ৩ লাখ ২৪ হাজার জীবিত ফেরেন। তাদের ৩ হাজার ১০০ জন বিকিরণজনিত লিউকেমিয়া বা অন্যান্য টিউমারের কারণে এরই মধ্যে মারা গেছেন বা মারা যাবেন।

গবেষণাটি প্রকাশ হয়েছে জার্নাল অব বায়োলজিক্যাল ফিজিক্স অ্যান্ড কেমিস্ট্রিতে। গবেষক ফিলিপ টমাস কর্মজীবনের শুরুর দিকে পারমাণবিক শিল্পে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, ‘সাধারণত মনে করা হয় বিকিরণ বিপজ্জনক। তবে এ গবেষণা প্রমাণ করে যে ক্যান্সারের জন্য একে যতটা দায়ী বলে মনে করা হয়, তার চেয়ে অনেক কম দায়ী।’

মার্কিন ও জাপানি সংস্থা রেডিয়েশন ইফেক্টস রিসার্চ ফাউন্ডেশনের অধীনে ফিলিপ টমাস গবেষণাটি করেছেন। যেখানে ১৯৫০ সাল থেকে ৮৭ হাজার হিবাকুশা (বোমা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি) পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত স্বাস্থ্য ও জনমিতি-সংক্রান্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল গবেষণায়। বিশ্লেষণে দুই শহরে প্রাথমিক বিস্ফোরণ থেকে বেঁচে যাওয়া মোট ৩ লাখ ২৪ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষণায় গণিত ও পরিসংখ্যানের বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে চল্লিশের দশকের শেষ দিক থেকে ২০৫৫ সাল পর্যন্ত ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এ হিসেবে জীবিতদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তির বয়স হবে ১১০ বছর।

বিকিরণজনিত লিউকেমিয়ার ঝুঁকি সাধারণত এক্সপোজারের ২-৩ বছর পর বাড়তে শুরু করে এবং প্রায় ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়; অন্যদিকে কিছু টিউমার তৈরি হতে ৫০ বছরেরও বেশি সময় লাগে।

লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চের ক্যানসার বিষয়ক অধ্যাপক অ্যামি বেরিংটন বলেন, ‘থমাসের সামগ্রিক সিদ্ধান্ত হিরোশিমা ও নাগাসাকি থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের ক্যান্সারের ঝুঁকি নিয়ে পূর্ববর্তী গবেষণার সঙ্গে মোটামুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। কোন জনগোষ্ঠী কত মাত্রায় বিকিরণের শিকার হয়েছে সে সম্পর্কে বিশদ তথ্য ছাড়া এই গবেষণার ফলাফলকে অন্য পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করতে আমাদের খুব সতর্ক থাকতে হবে।’

বেরিংটন আরো বলেন, ২০১১ সালে সুনামিতে জাপানের ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রিয়্যাক্টর গলনের পর যাদের সেখান থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল, তাদের অন্যতম বড় ভয় ছিল এই প্রভাব পরবর্তী প্রজন্মে গিয়ে পড়বে।

তিনি আরো বলেন, ১৯৮৬ সালের চেরনোবিল দুর্ঘটনার পর উচ্চ মাত্রার বিকিরণে আক্রান্ত কর্মীদের সন্তানদের মধ্যেও এমন কোনো প্রভাবের প্রমাণ মেলেনি।

আরও