বহুল আলোচিত ১এমডিবি কেলেঙ্কারি-সংক্রান্ত আরেকটি দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। আজ শুক্রবার ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন কুয়ালালামপুর হাইকোর্ট। এটি নাজিবের বিরুদ্ধে এ ধরনের কেলেঙ্কারি-সংক্রান্ত দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচারিক রায়। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
৭২ বছর বয়সী নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার-সংক্রান্ত চারটি ও অর্থ পাচারের ২১টি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলোয় বলা হয়, নাজিব ওয়ানএমডিবি তহবিল থেকে প্রায় ২২০ কোটি মালয়েশীয় রিঙ্গিত (প্রায় ৫৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার) অবৈধভাবে স্থানান্তর করেছিলেন। সব অভিযোগের পূর্ণ রায় ও সাজা ঘোষণা হওয়া এখনো বাকি। প্রতিটি অভিযোগেই দোষী সাব্যস্ত হলে নাজিব রাজাকের আরো ১৫ থেকে ২০ বছরের জেল ও বড় অংকের অর্থদণ্ড হতে পারে।
আদালতে কৌসুলিরা যুক্তি দিয়ে বলেছেন, এক দশকেরও বেশি সময় আগে নাজিব একজন প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও বিনিয়োগ তহবিল ওয়ানএমডিবির উপদেষ্টা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসাবে তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে সরিয়েছেন।
২০০৯ সালে নাজিব রাজাক ক্ষমতায় আসার পর দেশের উন্নয়নের জন্য ওয়ানএমডিবি তহবিল গঠন করেন। কিন্তু তদন্তকারীদের মতে, ২০০৯ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে ওই তহবিল থেকে অন্তত ৪৫০ কোটি ডলার আত্মসাৎ করা হয়। বিপুল এ অর্থ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়, যার বড় একটি অংশ নাজিবের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছিল।
এ কেলেঙ্কারি প্রথম সামনে এসেছিল ২০১৫ সালে। পরে ২০২০ সালে ওয়ানএমডিবি তহবিল থেকে প্রায় ৯ দশমিক ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অপব্যবহারের অভিযোগের প্রথম মামলায় নাজিবের ১২ বছরের কারাদণ্ড হয়। পরে তা ৬ বছরে নামিয়ে আনা হয়। ২০২২ সালের অগাস্ট থেকে নাজিব রাজাক কারাগারে এ সাজা ভোগ করছেন।
গত বছর ওয়ানএমডিবি কেলেঙ্কারি ভুলপথে পরিচালনার জন্য নাজিব ক্ষমা চেয়েছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় মামলার বিচারের সময় তিনি দাবি করেছিলেন, পলাতক মালয়েশিয়ান অর্থলগ্নিকারী ও ব্যবসায়ী ঝো লো তাকে বিপথগামী করেছিলেন।
ঝো লো-কে গ্রেফতারে ২০১৬ সালে ইন্টারপোল রেড নোটিস জারি করে। শুক্রবার আদালতে রায় পড়ার সময় বিচারক সেকুয়েরাহ বলেন, প্রমাণে দেখা গেছে, নাজিবের সঙ্গে ঝো লো’র ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও যোগাযোগ ছিল’। ঝো লো প্রধানমন্ত্রীর ‘প্রক্সি ও মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে কাজ করেছিলেন।