যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হওয়া তিন শতাধিক দক্ষিণ কোরীয় কর্মী আজ দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার বিকালে দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারা।
দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩১৬ জন কোরীয় ও অন্য দেশের ১৪ জন শ্রমিককে কোরিয়ান একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে দেশে নেয়া হয়েছে। আটক হওয়ার সময় থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তারা বন্দি অবস্থায় ছিলেন।
ঘটনাটি নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবল ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদপত্রগুলো লিখেছে, শ্রমিকদের সঙ্গে যুদ্ধবন্দির মতো আচরণ করা হয়েছে। অনেকে বলছেন, কোরিয়ার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র পেছন থেকে ছুরি মেরেছে। স্থানীয় এক জরিপে দেখা গেছে, ৬৮ শতাংশ কোরীয় মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র এ ঘটনায় মিত্র হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়াকে যথাযথ সম্মান দেখায়নি।
দেশটির প্রেসিডেন্টের একজন মুখপাত্র বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। তবে তাদের আরো আগে ফিরিয়ে আনতে পারিনি বলে আমরা দুঃখিত।’ তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আমরা এখন নতুন ধরনের বাস্তবতায় আছি। প্রতিবার মানদণ্ড বদলাচ্ছে, শুধু শুল্ক নয়, নিরাপত্তার বিষয়েও বারবার দরকষাকষি করতে হচ্ছে।’
এ শ্রমিকরা যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় হুন্দাইয়ের বৈদ্যুতিক গাড়ি কারখানায় কাজ করতেন। কোরীয় কর্মীদের ভিসার ‘শ্রেণী’ কী ছিল, তা স্পষ্ট নয়। মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের দাবি, অনেকে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করছিলেন। তবে আটক কর্মীদের আইনজীবীরা জোর দিয়ে বলেছেন, তাদের মক্কেলরা জর্জিয়ার প্ল্যান্টে বৈধভাবে কাজ করছিলেন।
এ ঘটনার পর এটাও স্পষ্ট নয় যে, জর্জিয়ার ওই কারখানায় এই কর্মীদের আবার কাজ করার অনুমতি দেয়া হবে কিনা। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে কোরীয় বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ বা হুন্দাই গাড়ি কারখানার কী হবে তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং কড়া হুঁশিয়ারি জানিয়ে বলেছেন, ভিসা সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে কোরীয় কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের বিষয়ে আবারো ভাববে।