‘একজন এসে আমার স্বামীকে গুলি করল’, পহেলগামে পর্যটকের বিভীষিকা

আহত এক ব্যক্তির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নারী আকুতি জানাতে থাকেন— ‘আমার স্বামীকে বাঁচান। দয়া করে ওকে বাঁচান।‘ অন্য এক নারীর কণ্ঠে শোনা যায়, ‘দয়া করে কেউ ওকে হাসপাতালে নিয়ে যান। দয়া করে, কেউ সাহায্য করুন।‘

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পহেলগামে মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে পর্যটকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আরো বহু মানুষ গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ফলে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর এনডিটিভি।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর অনন্তনাগ জেলার জনপ্রিয় পর্যটনস্থল পহেলগামের 'মিনি সুইজারল্যান্ড' নামে খ্যাত বাইসরানে পর্যটকরা ঘোড়ায় চড়ে ঘুরছিলেন। এমন সময় বন্দুকধারী সন্ত্রাসীরা কাছের জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এসে গুলি চালায়।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আহত অবস্থায় অনেক নারী সাহায্যের জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন। এক নারী বলেন, ‘আমরা তখন ভেলপুরি খাচ্ছিলাম। এমন সময় একজন এসে আমার স্বামীকে গুলি করে।‘ আরেক নারীর মুখে ছিল রক্তের দাগ। অসহায়ের মতো ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে ছিলেন। হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া পর্যটকদের সঙ্গে ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় এক শিশুকেও দেখা যায়।

আহত এক ব্যক্তির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নারী আকুতি জানাতে থাকেন— ‘আমার স্বামীকে বাঁচান। দয়া করে ওকে বাঁচান।‘ অন্য এক নারীর কণ্ঠে শোনা যায়, ‘দয়া করে কেউ ওকে হাসপাতালে নিয়ে যান। দয়া করে, কেউ সাহায্য করুন।‘

নিহতদের মধ্যে মহারাষ্ট্র, ওডিশা, তেলেঙ্গানা, হরিয়ানা ও কর্ণাটকের পর্যটকরা রয়েছেন। কর্ণাটকের শিমোগা জেলার একজন আবাসন ব্যবসায়ী তার স্ত্রী ও সন্তানের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বলে জানা গেছে। মহারাষ্ট্রের দুই পর্যটক– দিলীপ ডিসলে এবং অতুল মোনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস।

এই হামলায় ভারতীয় নৌবাহিনী ও গোয়েন্দা বিভাগের দুই কর্মকর্তাও নিহত হয়েছেন।

এই হামলার দায় ‘কাশ্মীর রেজিস্ট্যান্স’ নামের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী স্বীকার করেছে বলে রয়টার্সের এক খবরে বলা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গোষ্ঠীটি এ ঘোষণা দিয়েছে।

জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা জানান, সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করতে একটি সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে।

জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এই হামলাকে সাম্প্রতিক সময়ে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে চালানো সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করে হামলাকারীদের ‘অমানবিক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

ঘটনার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার সৌদি আরব সফর সংক্ষিপ্ত করে বুধবার ভোরে দিল্লি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এরইমধ্যে শ্রীনগরে পৌঁছেছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। মোদির সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা শেষে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেন।

পহেলগামে প্রতিবছর গ্রীষ্মে অসংখ্য পর্যটকের আগমন ঘটে। আকর্ষণ করে থাকে। এই হামলার ফলে সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়েছে।

আরও