কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) পূর্বাঞ্চলে ইবোলা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্যকর্মীরা একদিকে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন, অন্যদিকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখার জন্য সংগ্রাম করছেন। সংক্রমণ ঠেকাতে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত—সব রোগীকেই আলাদা রাখা হচ্ছে এবং তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। খবর বিবিসি।
চিকিৎসাকর্মীদের নিরাপত্তা বাড়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘কিউব’ নামের বিশেষ স্বচ্ছ আচ্ছাদন ব্যবহারকারী চিকিৎসা ইউনিট। এটি এমনভাবে তৈরি যে রোগীকে সরাসরি স্পর্শ না করেও চিকিৎসা দেওয়া যায়।
২০১৪-১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলা মহামারীর পর আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তা জোট এ প্রযুক্তি তৈরি করে।
ইবোলার প্রাথমিক উপসর্গ ম্যালেরিয়া বা টাইফয়েডের মতো রোগের সঙ্গে মিল থাকায় রোগ শনাক্ত করা কঠিন। পরবর্তী পর্যায়ে নাক, মাড়ি বা শরীরের অন্যান্য অংশ থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে।
সন্দেহভাজন রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করা হয় এবং প্রয়োজনে ৪৮ ঘণ্টা পর পুনরায় পরীক্ষা করা হয়। যাদের রিপোর্ট পজিটিভ আসে, তাদের উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা দেয়া হয় এবং পরপর দুটি নেগেটিভ পরীক্ষার ফল না আসা পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়া হয় না।
বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বুন্ডিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত ওষুধ বা টিকা নেই। ফলে রোগীদের অক্সিজেন, শিরায় তরল সরবরাহ এবং অন্যান্য সহায়ক চিকিৎসার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
ছবি: রয়টার্স
ডিআরসি-তে এ পর্যন্ত ২৮২টির বেশি নিশ্চিত সংক্রমণ ও ৪২টি মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া এক হাজারেরও বেশি সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে ২২০ জনের বেশি মারা গেছেন। অন্তত ১৬ জন স্বাস্থ্যকর্মীও এতে আক্রান্ত হয়েছেন।
স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজ আরো কঠিন হয়ে উঠেছে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে। ভারী পিপিই পরে তারা সাধারণত এক ঘণ্টার বেশি কাজ করতে পারেন না। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘বাডি সিস্টেম’ চালু করা হয়েছে, যেখানে একজন কর্মীর কাজ আরেকজন পর্যবেক্ষণ করেন।
এদিকে চলমান সশস্ত্র সংঘাতও ইবোলা মোকাবিলায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস এ পরিস্থিতিকে ‘রোগ ও সংঘাতের ভয়াবহ সংঘর্ষ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, নিরাপত্তাহীন পরিবেশে আক্রান্তদের শনাক্ত করা ও জনগণের আস্থা অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন।
তবুও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো আক্রান্ত এলাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইবোলা প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছেন।