কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী কার্নির দ্রুত ক্ষমতা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি

সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংকার কার্নি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের শুল্ক ও সম্ভাব্য সংযুক্তির হুমকি কানাডার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুত ও নির্বিঘ্ন হবে। সোমবার (১০ মার্চ) তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ধারণা করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) বা শুক্রবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। খবর রয়টার্স।

ট্রুডোর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে কার্নি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা জানি, এটি আমাদের দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। আমরা কানাডিয়ানদের সেবা করতে ঐক্যবদ্ধ। আমেরিকানরা আমাদের সম্পদ, আমাদের পানি, আমাদের জমি, আমাদের দেশ চায়। যদি তারা সফল হয়, তবে তারা আমাদের জীবনধারা ধ্বংস করে দেবে।

সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংকার কার্নি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের শুল্ক ও সম্ভাব্য সংযুক্তির হুমকি কানাডার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, ট্রাম্পের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ ও কানাডার প্রতিক্রিয়া নিয়ে চলছে আলোচনা।

ট্রাম্প প্রশাসন বুধবার থেকে কানাডার ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামে ২৫ শতাংশ শুল্ক বসাচ্ছে। কানাডা পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ৩০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক রেখেছে। অন্টারিও প্রদেশ প্রতিবাদ হিসেবে নিউইয়র্ক, মিশিগান ও মিনেসোটায় বিদ্যুৎ রপ্তানিতে ২৫ শতাংশ সারচার্জ ঘোষণা করেছে। এছাড়া কানাডার বিভিন্ন প্রদেশ মার্কিন পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে।

কার্নি পার্লামেন্টের সদস্য নন, তাই তাকে দ্রুত নির্বাচনের ডাক দিতে হতে পারে। না হলে বিরোধী কনজারভেটিভ দল পার্লামেন্টে তার সরকারকে ফেলে দেয়ার চেষ্টা করবে। কনজারভেটিভ নেতা পিয়েরে পয়লিয়েভ্রে কার্নিকে ‘করপোরেট স্বার্থ বিক্রেতা’ বলে কটাক্ষ করেছেন।

কার্নি ৮৬ শতাংশ ভোট পেয়ে লিবারেল দলের নেতৃত্বে এসেছেন। কিন্তু দলের প্রায় এক দশকের শাসনের পর ভোটারদের আস্থা রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হবে তার জন্য। বর্তমান পরিস্থিতি কানাডার রাজনৈতিক ইতিহাসে অনন্য চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আরও