আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোয় পাকিস্তানের বিমান হামলা ও স্থল সেনা অভিযানে ৩৬ জন নিহত হয়েছে। তালেবান সরকারের দাবি, এ হামলায় নিহত ৩৬ জনই বেসামরিক নাগরিক, এদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। এছাড়া ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। খবর বিবিসি।
আফগানিস্তানের পাকতিয়া, পাকতিকা ও কুনার প্রদেশের বেসামরিক ঘরবাড়িতে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে পাকতিকা প্রদেশের মান্দোখাইল গ্রামে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অন্যদিকে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, করাচিতে সিন্ধু রেঞ্জার্সের শিবিরে বোমা ও বন্দুক হামলার প্রতিক্রিয়ায় আফগানিস্তান সীমান্ত বরাবর স্থল অভিযান ও আকাশ হামলা চালিয়ে ২৯ জনকে হত্যা করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, দেশজুড়ে সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর অনেকগুলো হামলার জবাবে এ অভিযান চালানো হয়েছে। তারার দাবি করেন, আফগান সীমান্তের এ প্রদেশগুলোয় পাকিস্তান তালেবানের গোপন ও সুরক্ষিত আস্তানাগুলোকে লক্ষ্যস্থল করা হয়।
শনিবার করাচিতে পাকিস্তানের আধাসামরিক বাহিনী সিন্ধ রেঞ্জার্সের সদর দপ্তরে একটি আত্মঘাতী হামলা ঘটে, যার পরদিনই রোববার পাকিস্তান আফগানিস্তানে এ পাল্টা অভিযান চালায়। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, শনিবারের ওই হামলায় বাহিনীর ৩ জন সদস্য ও ৩ জন জঙ্গি নিহত হয়। এক বিবৃতিতে এ হামলার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তান তালেবানের উপদল জঙ্গি গোষ্ঠী জামাত-উল-আহরার।
কয়েক বছর ধরে পাকিস্তানে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলো একের পর এক হামলার শিকার হচ্ছে। পাকিস্তান সরকারের দাবি, এ হামলাগুলোর পেছনে 'টিটিপি' (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) নামের একটি জঙ্গি গোষ্ঠী জড়িত। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার তাদের দেশে এসব জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে এবং জঙ্গিরা আফগানিস্তান সীমান্ত পার হয়ে পাকিস্তানে এসে হামলা চালাচ্ছে। তবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পাল্টা অভিযোগ হিসেবে কাবুল প্রশাসন ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে বিনা উস্কানিতে হামলা চালিয়ে বেসামরিক নাগরিক হত্যার দাবি তোলে, যেখানে পাকিস্তানের দাবি তারা কেবল জঙ্গিদেরই লক্ষ্যবস্তু বানায়।