কাশ্মীর ইস্যুতে যৌথ বিবৃতি স্বাক্ষর করল না ভারত

বিবৃতিতে বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ থাকলেও কাশ্মীরের পেহেলগাম হামলা উপেক্ষিত থাকায় ভারত এটিকে ‘পাকিস্তানপন্থী’ বিবৃতি হিসেবে দেখে।

কাশ্মীরে সাম্প্রতিক এক জঙ্গি হামলার উল্লেখ না থাকায় সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) প্রতিরক্ষা সম্মেলনে যৌথ বিবৃতি স্বাক্ষর থেকে বিরত থাকল ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিবৃতিতে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের উদ্বেগ প্রতিফলিত হয়নি। খবর রয়টার্স।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমাদের উদ্বেগ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব একটি নির্দিষ্ট দেশ মেনে নেয়নি।‘ কোনো দেশের নাম প্রকাশ করা না হলেও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি—কাশ্মীরের পেহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ পর্যটক নিহত হওয়ার ঘটনা বিবৃতিতে বাদ পড়ে যাওয়ায় ভারত সই থেকে সরে আসে।

ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক একটি জঙ্গি সংগঠনকে দায়ী করে আসছে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসলামাবাদ।

চীন, রাশিয়া ও মধ্য এশিয়ার চারটি দেশ ২০০১ সালে পশ্চিমা প্রভাব মোকাবেলার লক্ষ্য নিয়ে এসসিও গঠন করে। ভারত ও পাকিস্তান ২০১৭ সালে সদস্য হয়। চীনে অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠকে প্রকাশিত হয়েছে এই যৌথ বিবৃতি।

ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিবৃতিতে বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ থাকলেও কাশ্মীরের পেহেলগাম হামলা উপেক্ষিত থাকায় ভারত এটিকে ‘পাকিস্তানপন্থী’ বিবৃতি হিসেবে দেখে।

পরে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, ‘কিছু দেশ নীতির অংশ হিসেবে সীমান্ত পার হয়ে সন্ত্রাসে মদদ দেয় এবং জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় দেয়। এসসিওর উচিত এমন দ্বিচারিতার সমালোচনা করা।‘

গত এপ্রিলে পেহেলগাম হামলার পর ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। মে মাসে পাকিস্তান ও পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে ভারত ‘সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে’ বিমান হামলা চালায় বলে দাবি করে। পাকিস্তান এ অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

এই উত্তেজনা ১০ মে পর্যন্ত চলে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, দুই দেশ ‘পূর্ণ ও তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে’ সম্মত হয়েছে—যা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হয়েছে বলে তার দাবি। তবে ভারত বরাবরই মার্কিন মধ্যস্থতার কথা অস্বীকার করে আসছে।

আরও