গাজার উপকূলের একটি জনবহুল ক্যাফেতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী যে হামলা চালিয়েছে, তাতে ৫০০ পাউন্ড (২৩০ কেজি) ওজনের শক্তিশালী বোমা ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান–এর হাতে আসা ধ্বংসাবশেষের ছবি ও বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এই ধরনের মারণাস্ত্র সাধারণত ব্যাপক বিস্ফোরণ ঘটায় এবং অনেক দূর পর্যন্ত ধাতব খণ্ড ছড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক আইনের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেখানে বহু বেসামরিক মানুষ—নারী, শিশু ও বৃদ্ধ উপস্থিত ছিলেন সেখানে এমন অস্ত্রের ব্যবহার প্রায় নিশ্চিতভাবেই অবৈধ এবং যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে।
ধ্বংসস্তূপে পাওয়া বোমার অংশগুলো যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত এমকে-৮২ বোমা হিসেবে শনাক্ত করেছেন অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা। বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট বড় গর্তও বড় মাপের মারণাস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলার আগে বেসামরিক হতাহত রোধে আকাশপথে নজরদারিসহ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল।
তবে মেডিকেল ও স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, হামলায় ২৪ থেকে ৩৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ডজনখানেক আহত। নিহতদের মধ্যে ছিলেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা, একজন শিল্পী, ৩৫ বছর বয়সী একজন গৃহিনী ও চার বছরের এক শিশু। আহতদের মধ্যে একজন ১৪ বছরের ছেলে ও ১২ বছরের মেয়েও রয়েছেন।
জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, এমন হামলা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ যা ‘সামরিক সুবিধার তুলনায় অতিরিক্ত বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি’ ঘটায়। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, কোনো লক্ষ্যবস্তুকে বিনাশ করা যদি সংঘাতের গতিপথে খুব বড় প্রভাব না ফেলে, তাহলে এরকম হামলায় বহু নিরীহ মানুষের প্রাণহানি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের গ্যারি সিম্পসন বলেন, ‘ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সুনির্দিষ্টভাবে বলেইনি কাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তবে তারা স্বীকার করেছে, আকাশপথে নজরদারির ফলে ক্যাফেতে মানুষের ভিড় তাদের জানা ছিল। এই পরিস্থিতিতে বড় বোমা ব্যবহার অনিবার্যভাবেই বেসামরিক হত্যার আশঙ্কা বাড়ায়। এই হামলা অবৈধ, অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা নির্বিচার হামলা হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং যুদ্ধাপরাধ হিসেবে তদন্ত হওয়া উচিত।‘
প্রায় ৪০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত আল-বাকা ক্যাফে গাজা সিটির যুবক ও পরিবারগুলোর কাছে জনপ্রিয় অবকাশ যাপন কেন্দ্র ছিল। সেখানে চা, কোমল পানীয় ও হালকা খাবার পরিবেশন হতো। গাজার ২৩ লাখ মানুষের বড় অংশই চরম খাদ্যাভাব ও অনাহারে ভুগছে। এর মধ্যেও কিছু মানুষ সামান্য সঞ্চয় বা বেতন দিয়ে এ ধরনের স্থানে সময় কাটাতে পারতেন।
অস্ত্র বিশেষজ্ঞ ও সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা ট্রেভর বল বলেন, ধ্বংসাবশেষে জেডিডিএএম টেইল সেকশন এবং থার্মাল ব্যাটারি পাওয়া গেছে, যা এমপিআর-৫০০ অথবা এমকে-৮২ বোমা ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়।